“মমতার ইশারায় সিন্ডিকেট!” অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রুদ্রনীল ঘোষের

রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে রাজনৈতিক পারদ সবসময়ই চড়া থাকে। এই আবহে ফের একবার তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়ক তথা বিশিষ্ট অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানায় রেখে রুদ্রনীলের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এদিন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক দাবি করেন, রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে যে সিন্ডিকেট রাজ চলছে, তা পুরোপুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইশারায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। রুদ্রনীলের কথায়, “গোটা বাংলায় সিন্ডিকেট চালানোর মূল কারিগর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই এই বেআইনি কর্মকাণ্ড অবাধে চলছে।”
রুদ্রনীল ঘোষের অভিযোগ, অভিষেকের সিন্ডিকেট রাজে যারা সঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন, সেই তৃণমূল নেতাদের একটি বড় অংশ লাগামহীন দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছেন। রাজ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “তৃণমূলের যেসব নেতা আজ দুর্নীতির দায়ে জেলে গিয়েছেন, তাঁরা তো কেবল মোড়ক। এই পাহার প্রমাণ দুর্নীতির আসল শিকড় অনেক গভীরে, যা সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত।”
শাসক দলের নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারির প্রসঙ্গ টেনে এনে রুদ্রনীল বলেন, “দুর্নীতিবাজদের জেল হওয়াটাই স্বাভাবিক। মানুষের টাকা লুঠ করে যারা প্রাসাদে থাকছিলেন, তাঁদের আজ সেই হিসেব দিতে হচ্ছে। কিন্তু শুধু নিচুতলার কর্মীদের সাজা দিলেই হবে না, মূল মাথাদের চিহ্নিত করতে হবে।” তাঁর মতে, রাজ্যে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দল—সকলেই শাসক দলের আসল চেহারাটা দেখে ফেলেছেন।
রুদ্রনীলের এই মন্তব্যের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। শাসক দলের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এই মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে বিজেপি শিবিরের একাংশ রুদ্রনীলের এই দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, রুদ্রনীল যা বলেছেন, তা রাজ্যের মানুষের মনের কথাই প্রতিফলিত করেছে। অভিনেতা-রাজনীতিবিদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘর্ষের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সব মিলিয়ে, মমতা-অভিষেককে কেন্দ্র করে রুদ্রনীলের এই আক্রমণ যে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়াল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।