প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাসভবনে সরকারি ত্রিপল এবং ত্রাণ সামগ্রী মজুত থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের বদলে বাড়ির ভেতরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উত্তেজিত জনতা মন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সরকারি ত্রাণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, তা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা অন্য উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর বাড়িতে কেন রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলে বাসিন্দারা স্লোগান দিতে থাকেন। এরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির ভেতর ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন উত্তেজিত মানুষজন প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন। ঘটনার খবর পেয়েই কোতোয়ালী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেও উত্তেজিত জনতার একাংশ ক্ষোভ প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন। শেষমেশ, বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধী পক্ষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার সত্যতা এবং কেন ওই সামগ্রী বাড়িতে ছিল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো প্রকার বেআইনি কাজের সাথে যুক্ত কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। এই ঘটনার জেরে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে।





