ভোটের বাদ্যি বাজতেই কি থমকে গিয়েছে শহরের নাগরিক পরিষেবা? শহরজুড়ে জঞ্জাল পরিষ্কার থেকে শুরু করে জল সরবরাহ— সব ক্ষেত্রেই কি চরম গাফিলতি চলছে? সম্প্রতি এমনই এক গুরুতর অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে পুর-প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, পুরকর্মীদের একটি বড় অংশকে নির্বাচনের কাজে মোতায়েন করায় শিকেয় উঠেছে সাধারণ মানুষের পরিষেবা।
অভিযোগের তির কোথায়? শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অভিযোগ আসছিল যে, রাস্তার আলো মেরামত বা নিকাশি পরিষ্কারের মতো জরুরি কাজগুলো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, প্রশাসন এখন শুধুমাত্র ভোটের অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল টেবিলে আটকে থাকায় থমকে গিয়েছে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিও।
পাল্টা কী বললেন কমিশনার? তবে এই সমস্ত অভিযোগকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছেন পুর কমিশনার। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য:
পরিকল্পিত কর্মবণ্টন: ভোটের কাজের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে, যাতে মূল পরিষেবার ওপর তার কোনো প্রভাব না পড়ে।
পরিষেবা স্বাভাবিক: নির্দিষ্ট রুটিন মেনেই প্রতিদিন জঞ্জাল অপসারণ এবং পানীয় জল সরবরাহের কাজ চলছে।
দ্রুত সমাধান: কোনো এলাকায় সাময়িক সমস্যা হলে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কমিশনারের কড়া বার্তা: কমিশনার আরও জানান, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সেই কাজে কর্মীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যদি কাজে ফাঁকি দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শহরের পরিষেবা নিয়ে এই টানাপোড়েনের মধ্যে সাধারণ নাগরিকরা এখন কার কথা বিশ্বাস করবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। একদিকে ভোট উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে দৈনন্দিন দুর্ভোগ— দুইয়ের মাঝে পড়ে নাজেহাল আমজনতা।





