প্রেম করার অপরাধে ২১ লাখ টাকা জরিমানা! রাজস্থানে খাপ পঞ্চায়েতের চরম ফতোয়া, প্রাণভয়ে কাঁপছে নবদম্পতি!

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ভালোবাসার পরিণতিতে সমাজের রক্তচক্ষু! ভালোবেসে বিয়ে করার অপরাধে এক আদিবাসী পরিবারের ওপর ২১ লক্ষ টাকার বিশাল অঙ্কের জরিমানা চাপাল রাজস্থানের দৌসা জেলার এক প্রভাবশালী খাপ পঞ্চায়েত। শুধু তাই নয়, এই বিপুল টাকা না মেটালে ওই পরিবারকে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বয়কট তথা ‘হুকা-পানি বন্ধ’ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই চরম ফতোয়ার পর প্রাণভয়ে কাঁপতে থাকা নববধূ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও শেয়ার করে প্রশাসনের কাছে সুরক্ষার আর্জি জানিয়েছেন।

৮৪ গ্রামের ফতোয়া: না শুনলে সমাজচ্যুত!
ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের রামগড় পচওয়ারা এলাকায়। অভিযোগকারী অর্জুন লাল মীনা জানান, তাঁর ভাইপো কমলেশ মীনা এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর পারস্পরিক সম্মতিতে ভালোবেসে বিয়ে করেন। কিন্তু এই বিয়েকে কোনোভাবেই মেনে নেয়নি এলাকার তথাকথিত সমাজপতিরা।

বিয়ে ভাঙতে এবং পরিবারটিকে শিক্ষা দিতে তড়িঘড়ি বসে ৮৪টি গ্রামের মোড়লদের নিয়ে গঠিত ‘খাপ পঞ্চায়েত’। অভিযোগ, সেখানে ছেলেপক্ষের কোনো কথাই শোনা হয়নি। উল্টে একতরফাভাবে ২১ লক্ষ টাকার জরিমানার ফরমান শোনানো হয়। পরিবারের দাবি, পঞ্চায়েত চলাকালীন তাঁদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং প্রতিবাদ করায় শাস্তির খাঁড়াও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

“আমাকে অপহরণ করা হয়নি!” ভিডিও বার্তায় কাঁপছেন নববধূ
এই পঞ্চায়েতি ফতোয়ার পরেই নিরাপত্তার স্বার্থে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা জারি করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ভিডিওতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন:

“আমি কোনো জবরদস্তি বা অপহরণের শিকার হইনি। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেয় এবং সম্মতিতে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। এখন আমার শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়ির কিছু প্রভাবশালী মানুষের কাছ থেকে আমাদের জীবনের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।”

তিনি অবিলম্বে তাঁদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রাজস্থান পুলিশের কাছে হাতজোড় করে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

নড়েচড়ে বসল পুলিশ প্রশাসন
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই দম্পতির সুরক্ষাসংক্রান্ত একটি আবেদনপত্র তাঁরা পেয়েছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি নোটিশ জারি করে তাঁদেরকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে এবং দম্পতির নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

প্রেমের ওপর সমাজের এমন তালিবানি ফতোয়া নিয়ে ইতিমিধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। আধুনিক ভারতে পঞ্চায়েতের এই স্বৈরাচারী রূপকে ধিক্কার জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।