ভারতের সুরক্ষায় নতুন রণকৌশল! গজরাজ কোর পরিদর্শনে সেনাপ্রধান, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে বড় বার্তা

দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং সীমান্ত অঞ্চলের সামগ্রিক যুদ্ধ-প্রস্তুতির অবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর করলেন সেনাপ্রধান (COAS) জেনারেল ধীরজ শেঠ। এদিন তিনি ইস্টার্ন কমান্ডের অধীনে থাকা গজরাজ কোর পরিদর্শন করেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলের অপারেশনাল কর্মক্ষমতা এবং সামরিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা।
পরিদর্শনের সময় সেনাপ্রধানকে গজরাজ কোরের অন্তর্গত বিভিন্ন ইউনিট ও ফরমেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। মূলত পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী যে সমস্ত সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা খতিয়ে দেখেন জেনারেল শেঠ। এছাড়া, ওই এলাকায় বেসামরিক প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সাথে সেনাবাহিনীর সমন্বয় ব্যবস্থা নিয়ে তাঁকে অবগত করা হয়। উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে সেনার সক্রিয় সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অসম ও মেঘালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ফরমেশনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সেনার দ্রুত সাড়াদানের ঘটনা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। সেনাসদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সময় তিনি তাঁদের অতুলনীয় পেশাদারিত্ব, অটল মনোবল এবং দেশপ্রেমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারতীয় সেনার সাহসিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতা দেশের নিরাপত্তার বড় স্তম্ভ।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সেনাপ্রধান। কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গজরাজ কোরে নতুন গঠন-পদ্ধতি ও উদীয়মান প্রযুক্তির যে ব্যবহার করা হচ্ছে, তারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন তিনি। জেনারেল শেঠ বলেন, পরিবর্তনশীল আধুনিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। তিনি সকল পদবির সদস্যদের নিজ নিজ লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জেনারেল শেঠ। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রযুক্তি ও নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা সম্ভব। তাঁর এই পরিদর্শন সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা বলয়কে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সেনাপ্রধানের এই সফর কেবল একটি নিয়মিত পরিদর্শন নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি এবং আধুনিকীকরণের একটি স্পষ্ট বার্তাও বটে।