ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। কয়লা-নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ শক্তি’র দিকে বড় পদক্ষেপ নিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি (NTPC)। বিহারের বাঁকা জেলায় প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা হচ্ছে ১,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিশাল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই মেগা প্রকল্পটি শুধু বিহারের নয়, গোটা দেশের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাইলফলক হতে চলেছে।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি: কী থাকছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে?
পাটনা থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে বাঁকা জেলায় এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে।
ইউনিট: প্রতিটি ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি পৃথক ইউনিট থাকবে।
জমি ও জল: প্রায় ১,০০০ একর জমির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিহার সরকার ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি ও জল সরবরাহের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।
স্থিতি: এনটিপিসি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সাইট পরিদর্শন করে প্রযুক্তিগত ও পরিবেশগত দিকগুলি খতিয়ে দেখছেন।
২০৪৭-এর ‘মেগা টার্গেট’ ও ভারত
ভারত সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে এনটিপিসি একাই ৩০ গিগাওয়াট ক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা করেছে। বাঁকার এই প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর জাতীয় লক্ষ্যেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কয়লার তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নির্গমন নগণ্য হওয়ায় এটি পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
বিহারের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিহারের শিল্প ও কৃষি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে।
কর্মসংস্থান: কেন্দ্রটি নির্মাণকালে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। পরবর্তীকালে কয়েক হাজার দক্ষ প্রযুক্তিবিদের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
আর্থিক উন্নয়ন: বাঁকা জেলার পরিকাঠামো এবং স্থানীয় অর্থনীতির মানোন্নয়নে এই প্রকল্প এক নতুন দিশা দেখাবে।
নিরাপত্তায় আপসহীন কেন্দ্র
পারমাণবিক শক্তির ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকলেও, এনটিপিসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখানে আধুনিকতম নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগে খুশি বিহারের বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, দেশ এখন শক্তির ক্ষেত্রে সত্যিকারের ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে এগোচ্ছে।





