ভাঙড়ে ISF-এর লুম্পেন রাজ চলছে! বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দল ছাড়লেন আরাবুল

মাত্র পাঁচ মাসের মাথাতেই মোহভঙ্গ ঘটল ভাঙড়ের একদা দাপুটে ও আলোচিত নেতা আরাবুল ইসলামের। তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অবশেষে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ ছাড়ার ঘোষণা করলেন। দলত্যাগের নেপথ্যে মূলত স্বৈরাচার এবং একনায়কতন্ত্রকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই দলবদলের ঘোষণা করেন, যা ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে আরাবুল ইসলাম লেখেন, আইএসএফের স্বৈরাচারী এবং একনায়কতন্ত্রকে তিনি তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, আইএসএফের লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়েই সাধারণ মানুষের ওপর লাগাতার অত্যাচার ও অনাচার নেমে এসেছে। এই ধরনের অন্যায় ও পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দীর্ঘদিনের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। তৎকালীন সময়ে আইএসএফের টিকিটে তিনি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি। নির্বাচনের পর থেকেই তাঁকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে বা জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই নীরবতা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিলেম। অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি এমন এক বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত নিলেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও অবাক করেছে।
আরাবুলের এই আচমকা দলত্যাগের পরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে—তবে কি এবার ফের ‘ঘরওয়াপসি’ হতে চলেছে? পুরনো দল তৃণমূলেই কি তিনি ফের ফিরবেন? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি আরাবুল ইসলাম নিজে। তবে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীনও আরাবুল ইসলাম বারবার নানা বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার বরাবরই ওঠাপড়ায় ভরা। একসময় একটি কলেজে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের দিকে জলের জগ ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তৃণমূল থেকে তাঁকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং তিনি ফের নিজের পুরোনো ছন্দে রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এলাকার রাজনীতিতে আরাবুলের একচ্ছত্র প্রভাব ও দাপট কারোরই অজানা নয়।
শুধু তাই নয়, ক্যানিং পূর্বের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ঠান্ডা লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে। বিরোধীদের নানা অভিযোগে একাধিকবার তাঁকে আইনি লড়াইতেও নামতে হয়েছে এবং তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এলাকায় অশান্তি ছড়ানো, উস্কানি ও প্ররোচনা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শত আইনি লড়াই ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি বারবার রাজনীতিতে কামব্যাক করেছেন। সেবারও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়ে গলায় ফুলের মালা পরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ভাঙড়ে ফিরেছিলেন তিনি। এখন দেখার, আইএসএফ ছাড়ার পর তাঁর এই রাজনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন মোড় নেয়।