রাষ্ট্রের মাথায় ঋণের বোঝা! বিহারের আর্থিক সংকট নিয়ে তীব্র আক্রমণ তেজস্বী যাদবের

বিহারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব শুক্রবার এক জোরালো বিবৃতিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, বিহারের আর্থিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে চরম উদ্বেগের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রাজ্যজুড়ে এক গভীর আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে সরব হয়ে তেজস্বী যাদব উল্লেখ করেন যে, বিহারের ওপর জনসাধারণের ঋণের বোঝা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের রাজকোষ ঘাটতি সরাসরি গ্রস স্টেট ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট বা জিডিপি-র (GSDP) ৫.৮ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। তাঁর মতে, দেশের বড় বড় রাজ্যগুলির তালিকার নিরিখে এই মুহূর্তে বিহারের রাজকোষ ঘাটতির হার সর্বাধিক, যা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার চরম অবনতির সুস্পষ্ট লক্ষণ।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি এবং ঋণের চাপে পড়ে বর্তমান শাসক জোট সরকার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নিয়মিত বেতন এবং পেনশন প্রদান, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অনুদান, ঠিকা শ্রমিক ও ঠিকাদারদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য সময়মতো বাজেট বরাদ্দ বা তহবিল ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু তাই নয়, শিক্ষা ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আরও দাবি, গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বদলে বিভিন্ন স্তরে শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ ছাঁটাই করা হচ্ছে, যার ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন রাজ্যের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনাকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কোনো সুদূরপ্রসারী বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেই বলেই অভিযোগ করেছেন তেজস্বী। বিগত দুই বছরে রেকর্ড পরিমাণে ঋণ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক রাজকোষের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জনকল্যাণের নামে সংগৃহীত ও উত্তোলিত সার্বিক জনধনের স্বচ্ছ ও সঠিক ব্যবহার নিয়েও তিনি তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। সব মিলিয়ে, সরকারের এই আর্থিক নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।