অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় মধ্যমগ্রামে উত্তাল বিক্ষোভ! সোদপুর রোড অবরোধে নাজেহাল সাধারণ মানুষ

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় এবং প্রকল্পের সুবিধা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার সকাল থেকে সোদপুর রোডে নেমে বিক্ষোভ দেখান উপভোক্তাদের একটি বড় অংশ। দীর্ঘ সময় রাস্তা অবরোধের জেরে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।

এদিন সকাল থেকেই মধ্যমগ্রামের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মহিলারা জড়ো হয়ে সোদপুর রোড অবরোধ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। অনেকে নিয়ম মেনে সমস্ত নথিপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারি পোর্টালেও দেখাচ্ছে যে তাঁদের আবেদন ‘অনুমোদিত’ (Approved)। অথচ বাস্তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা এসে পৌঁছায়নি। বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, অনেকের ক্ষেত্রে পোর্টালে হঠাৎ করে এমন তথ্য দেখানো হচ্ছে যে, তাঁদের ‘তিনটি বাড়ি রয়েছে’, তাই টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। উপভোক্তাদের অভিযোগ, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তাঁদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এহেন কারচুপি করা হচ্ছে।

প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে চলা এই অবরোধের জেরে সোদপুর রোডের যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ব্যস্ততম যশোর রোডেও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। নিত্যযাত্রী ও স্কুল পড়ুয়ারা পড়েন চরম বিপাকে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের অনুরোধেও অবরোধ তুলতে নারাজ ছিলেন ক্ষুব্ধ মহিলারা।

অবরোধ তুলে নেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা সরাসরি মধ্যমগ্রাম পুরসভায় যান এবং এক্সিকিউটিভ অফিসারের ঘর ঘেরাও করেন। কেন যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা আটকে দেওয়া হচ্ছে, তার সদুত্তর দাবি করেন তাঁরা। পুরসভার তরফে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর আধিকারিকরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের কাছেও একাধিক অভিযোগ এসেছে। তাই পুনরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন করে ‘ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন’ (শারীরিক যাচাইকরণ) করা হবে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

যদিও পুরসভার এই আশ্বাসে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের মতে, বারবার ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও টাকা না মেলায় তাঁরা সরকারি দপ্তরের গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন। ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের পরও যদি টাকা না মেলে, তবে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। এখন দেখার, পুরসভার নতুন এই পদক্ষেপের পর সমস্যার সমাধান হয় নাকি বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।