কেন আটকে গেল তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর আমেরিকা সফর? তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত

তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নির্ধারিত আমেরিকা সফর ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জলঘোলা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার এই সফরের অনুমতি না দেওয়ায় তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বিদেশ সফরের ছাড়পত্র দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে তেলঙ্গানা প্রশাসনের অন্দরে এবং রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২০ অগস্ট ‘তেলঙ্গানা রাইজ়িং’ প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিটেন ও আমেরিকা—এই দুই দেশের উদ্দেশ্যে ১০ দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে রওনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় বস্টন যাওয়ার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি। আগামী ২৩ অগস্ট লন্ডন থেকেই সোজা হায়দরাবাদে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তেলঙ্গানা সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ অগস্টই এই সফরের জন্য কেন্দ্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে রেবন্তরা লন্ডন পৌঁছনোর ঠিক পরেই আমেরিকা সফরে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানায় কেন্দ্র। এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ বিশদে জানতে রাজ্য প্রশাসনকে অবিলম্বে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
নিজে মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করতে না পারলেও ‘তেলঙ্গানা রাইজ়িং’ প্রতিনিধিদলকে আমেরিকার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রেবন্ত রেড্ডি। বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত মেলবন্ধন ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রতিনিধিদলের। সূত্রের খবর অনুযায়ী, হার্ভার্ড, এমআইটি, নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং ভার্জিনিয়া টেকের মতো বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সেরে এই প্রতিনিধিদল চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করবে।
এই প্রসঙ্গে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি জানান, কোনো বাধাই তেলঙ্গানার উন্নয়নের গতিপথ রুখতে পারবে না। কেন্দ্রের নতুন শিক্ষানীতিকে সামনে রেখেই বিশ্বের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজ্যে নিয়ে আসাই ছিল এই বিদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য। তেলঙ্গানার মেধাবী যুবসমাজের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও উন্নত প্রশিক্ষণ পাওয়ার যে স্বপ্ন রয়েছে, তাকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।