বীরভূমের শান্তিনিকেতন সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বোলপুর শহরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল ধর্মীয় অস্থিরতা। এবার অভিযোগ, হোটেলের সামনে নিয়মিত হরিনাম সংকীর্তন করার ‘অপরাধে’ শ্যামল নাগ নামে এক নিরামিষ হোটেলের মালিককে ইসলামপন্থী একদল যুবক নির্মমভাবে মারধর করেছে। এই ঘটনায় শহরের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে।
বোলপুর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের ঠিক কাছেই শ্যামল নাগ নামে ওই ব্যক্তি একটি ছোট নিরামিষ হোটেলের ব্যবসা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি প্রতিদিন বিকেলে হোটেলের সামনে লাউডস্পিকারে হরিনাম সংকীর্তন বাজান। তাঁর দাবি, কৃষ্ণনাম ছাড়া তিনি দিন শুরু বা শেষ করতে পারেন না। স্থানীয় অনেকের কাছেই এই ভক্তিপূর্ণ পরিবেশটি অত্যন্ত পরিচিত এবং তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু শান্তিপ্রিয় এই মানুষটির ওপরই নেমে এল অন্ধকার।
অভিযোগ, কয়েকদিন আগে থেকে স্থানীয় কিছু ইসলামপন্থী যুবক এই সংকীর্তন বন্ধ করার জন্য শ্যামলবাবুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। তারা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটিকে তাদের জন্য সমস্যা বলে দাবি করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, একদল যুবক হঠাৎই হোটেলের সামনে এসে চড়াও হয়। লাউডস্পিকার জোর করে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে তারা শ্যামলবাবুকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। শ্যামলবাবু যখন বিনম্রভাবে জানান যে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় অধিকার এবং তিনি কাউকে বিরক্ত না করেই সংকীর্তন করছেন, তখনই যুবকরা মারমুখী হয়ে ওঠে।
আভিযোগকারীদের দাবি, লাঠি এবং হাতের কিল-চড় দিয়ে ওই যুবকরা শ্যামল নাগকে মারধর করতে শুরু করে। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বোলপুর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সংগঠন ও বাসিন্দারা বলছেন, বীরভূমে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি কেবল একদল যুবকের কাজ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা অবশ্য এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। বীরভূমের মতো একটি সংস্কৃতিমান শহরে এমন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার ঘটনা সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।





