বৈরুতে ইজরায়েলি রকেট হানা, খতম হিজবুল্লাহ প্রধানের ভাইপো! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ফের বিধ্বংসী বিমান হানা চালাল ইজরায়েলি বায়ুসেনা। লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর উচ্চপদস্থ নেতৃত্ব। আর সেই অভিযানেই এবার বড়সড় সাফল্য পেল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। দাবি করা হচ্ছে, এই এয়ার স্ট্রাইকে নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধানের ভাইপো, যিনি সংগঠনের অন্দরে অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অপারেশনের খুঁটিনাটি: আজ বিকেলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে হিজবুল্লাহর একটি গোপন ডেরাকে টার্গেট করে একাধিক মিসাইল ছোঁড়ে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সংলগ্ন কয়েকটি বহুতল মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই হামলা তাৎপর্যপূর্ণ? হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়কে খতম করা ইজরায়েলের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক জয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কমান্ড কাঠামো বড়সড় ধাক্কা খেল। হামলার পরপরই গোটা এলাকায় হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে পালটা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য: গত কয়েক দিন ধরেই ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইজরায়েলের স্পষ্ট বার্তা, উত্তর সীমান্তে শান্তি ফেরাতে এবং হিজবুল্লাহর হুমকি মুছে ফেলতে তারা যে কোনও স্তর পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। আজকের এই হামলার পর লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হল।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি, তবে বৈরুতের হাসপাতাল সূত্রে একাধিক ‘হাই-প্রোফাইল’ ক্যাজুয়ালটির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।