বেকারদের মুখে হাসি! ৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, জেনে নিন নিয়োগ পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গের চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে প্রায় ৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ এবং প্রশাসনিক পরিষেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলো পূরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরকে তাদের অধীনে থাকা শূন্যপদের চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতরের কড়া নির্দেশে আগামী ৩ জুনের মধ্যেই ডিজিটাল পোর্টালে এই তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে প্রতিটি বিভাগকে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার নেপথ্যে রয়েছে দুটি মূল লক্ষ্য—প্রথমত, প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কর্মী সংকট দূর করা এবং দ্বিতীয়ত, রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার একটি ‘নতুন নিয়োগ নীতি’ (New Recruitment Policy) নিয়ে আসছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী বিধানসভা অধিবেশনে এই নীতি পেশ করা হতে পারে এবং সম্ভবত ৫ জুনের মধ্যেই এর খসড়া প্রকাশ্যে আসবে।

নতুন এই নীতি অনুযায়ী, মৌখিক পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং ওএমআর শিট সংক্রান্ত অস্বচ্ছতা দূর করে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তোলা হবে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অতীতে রাজ্যে ৬ লক্ষ শূন্যপদ থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতে ৫০ হাজার পদে নিয়োগের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

তবে আপাতত অস্থায়ী কর্মীদের সরাসরি স্থায়ী করার পথে হাঁটছে না সরকার। নবান্নের মতে, অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করলে নতুন মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। তাই সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দিতেই আগ্রহী প্রশাসন। প্রশাসনিক গতি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া মাইলফলক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy