পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে এক দীর্ঘকালীন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। এই দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে আশার আলো দেখা গেল। সম্প্রতি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকেই ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই ডিএ হারের বিশাল ফারাক, অর্থাৎ ৪২ শতাংশ ব্যবধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার কি তবে কেন্দ্রের সমতুল্য ডিএ দিতে চলেছে? এই ৪২ শতাংশের বিশাল ব্যবধান কি এবার কমতে চলেছে?
সোমবার সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ-র দাবির প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আমাদের দাবি, সরকার স্থায়ী আদেশনামা প্রকাশ করুক এবং ভবিষ্যতে কেন্দ্র যেভাবে ডিএ ঘোষণা করবে, রাজ্যও যেন সেই পথ অনুসরণ করে।”
এই আলোচনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২২ জুন রাজ্যে বাজেট পেশ করা হবে। সেই বিশেষ দিনটিতেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক অত্যন্ত সুখকর খবর অপেক্ষা করছে। অর্থাৎ, চলতি মাসেই মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পর থেকেই সরকারি মহলে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই অনুমান করছেন, রাজ্য সরকার হয়তো কেন্দ্রের হারেই ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করতে পারে। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ২২ জুন বাজেট অধিবেশনেই। সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের এই দাবিপূরণ হলে তা যে রাজ্যের প্রশাসনিক গতিশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন কেবল সেই বিশেষ দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।





