বৃষ্টির মরসুমে চুল পড়ার সমস্যায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়ার গোপন কৌশল

বর্ষা এলেই প্রকৃতির রঙ বদলায়, সঙ্গে আমাদের লাইফস্টাইলেও আসে একগুচ্ছ পরিবর্তন। তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি মিললেও, বৃষ্টির মরসুম নিয়ে আসে চুলের জন্য একগুচ্ছ সমস্যা। বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্য এবং বৃষ্টির জলের সংস্পর্শে মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প হয়ে ওঠে আঠালো, যা ডেকে আনে চুল পড়ার মতো মারাত্মক বিপদ। চুল হারায় তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য, হয়ে ওঠে ভঙ্গুর। তবে ভয়ের কিছু নেই, সঠিক সচেতনতা এবং কিছু সাধারণ অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে আপনার চুলকে রাখতে মজবুত ও সজীব।

১. স্ক্যাল্পের পরিচ্ছন্নতা: বর্ষায় স্ক্যাল্পে দ্রুত ময়লা, তেল ও ঘাম জমে। এটি খুশকি এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের প্রধান কারণ। তাই মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে অন্তত দু-তিনবার চুল পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
২. বৃষ্টিতে ভিজলে সাবধান: বৃষ্টির জলে প্রচুর ধূলিকণা ও রাসায়নিক উপাদান থাকে যা স্ক্যাল্পের ক্ষতি করে। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরলে দেরি না করে পরিষ্কার জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং হালকা তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন।
৩. ভেজা চুল আঁচড়াবেন না: ভেজা চুল সবচেয়ে বেশি দুর্বল থাকে। এই সময় জোরে চিরুনি চালালে চুল গোড়া থেকে ছিঁড়ে আসতে পারে। চুল প্রাকৃতিকভাবে শুকানোর পরই মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন।
৪. ড্রায়ার থেকে দূরে থাকুন: বর্ষাকালে হেয়ার ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনারের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের গোড়াকে আরও দুর্বল করে দেয়। সম্ভব হলে প্রাকৃতিক বাতাসে চুল শুকানোর চেষ্টা করুন।
৫. চুলে তেল দিন ঠিকঠাক: চটচটে ভাব হওয়ার ভয়ে অনেকেই চুলে তেল দেওয়া বন্ধ করে দেন, যা ভুল। নারকেল বা আমন্ড অয়েল দিয়ে আলতো মাসাজ করলে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। তবে বেশিক্ষণ তেল জমিয়ে রাখবেন না।
৬. পুষ্টিকর খাবার: সুন্দর চুলের মূল চাবিকাঠি হলো আপনার ডায়েট। খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, আয়রন, সবুজ শাকসবজি ও পর্যাপ্ত ফলমূল রাখুন। প্রচুর জল পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন।
৭. চুল বাঁধার ক্ষেত্রে সচেতনতা: ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে চুল শক্ত করে বেঁধে রাখলে গোড়ায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ভয় থাকে। চুল পুরোপুরি না শুকানো পর্যন্ত বাঁধবেন না।

মনে রাখবেন, বর্ষায় অল্প চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও তা যেন কোনো মতেই অভ্যাসে পরিণত না হয়। সঠিক সময়ে চুলের যত্ন নিলে এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে অনায়াসেই আপনি পেতে পারেন ঘন, কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল। তবুও সমস্যা প্রকট হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।