শিলিগুড়িতে মেজাজ হারালেন পর্যটনমন্ত্রী! বালি মাফিয়াদের হুশিয়ারি দিয়ে থানায় দিলেন কড়া নির্দেশ

শিলিগুড়ির আশিঘর এলাকায় রাস্তার বেহাল দশা ও বালি পাচারের অভিযোগ ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হলো। এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়লেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগের পাহাড় নিয়ে এলাকাবাসী মন্ত্রীর সামনে সরব হতেই ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তাঁর। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পৌঁছে যান স্থানীয় থানায় এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বালি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আশিঘর এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে বালি বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় রাস্তাঘাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এই পাচারের সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও মাফিয়া চক্রের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ। শুক্রবার দুপুরে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এলাকা পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগের ঝুলি খুলে বসেন। বালি পাচারের রমরমা ব্যবসার কথা শুনে মন্ত্রী বুঝতে পারেন, বিষয়টি কেবল রাস্তার খারাপ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে বড়সড় অপরাধমূলক সিন্ডিকেট।
এরপরই কোনো রকম সময় নষ্ট না করে মন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান স্থানীয় থানায়। পুলিশের সামনেই তিনি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বালি পাচারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন। মন্ত্রী বলেন, “এই বালি পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত তা দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। প্রশাসনকে কাজে লাগান। আর যদি আমাকে দ্বিতীয়বার এই একই অভিযোগ নিয়ে এখানে আসতে হয়, তবে কিন্তু ফল ভালো হবে না।” তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
থানায় দাঁড়িয়ে মন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দেন, অবিলম্বে বালি বোঝাই ট্রাক চলাচল রুখতে নাকা চেকিং বাড়াতে হবে এবং যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শঙ্কর ঘোষের এই আচরণের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা বিষয়টিকে নাটক বলে কটাক্ষ করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই সক্রিয়তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। আশিঘর এলাকার ভাঙা রাস্তা ও বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধে মন্ত্রীর এই ‘কড়া ডোজ’ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।