বিহারে ত্রাস ছড়ানো রূপান্তরকামী ‘মনি কিন্নর’ কে? বান্টি খুনের নেপথ্যে ভয়ংকর প্রেমের কাহিনী!

পাটনার কারবিঘিয়া থেকে অপহৃত মুদি দোকানের মালিক বান্টি যাদবের নৃশংস হত্যাকাণ্ড বর্তমানে বিহারের রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তেজস্বী যাদব থেকে প্রশান্ত কিশোর—বিরোধী শিবিরের নেতারা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরকারকে একহাত নিয়েছেন। পুলিশের তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উঠে এসেছে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের সদস্য ‘মনি কিন্নর’-এর নাম।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, মনি কিন্নর পাটনায় একটি অবৈধ মদের ব্যবসার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। তার এই নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবিশ কুমার ওরফে ‘বিসিয়া’। শোনা যায়, মনি ও রবিশের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা একযোগে অবৈধ মদের কারবার চালাত। বান্টি যাদবের সঙ্গে মদের ব্যবসায় ভাগ বসানো নিয়ে তাদের সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এছাড়া মনি কিন্নরের সন্দেহ ছিল যে, বান্টি পুলিশকে খবর দিয়ে তার তিন সঙ্গীকে জেলে পাঠিয়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই বান্টিকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে মনি ও রবিশ।
তদন্ত অনুযায়ী, ৬ জুলাই রাতে মহাবীর মন্দিরে ডেকে নেওয়ার নাম করে বান্টিকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার পর ১০ জুলাই পর্যন্ত পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ ও অবরোধে সামিল হন। ১১ জুলাই আথমালগোলায় বান্টির মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর যে বীভৎসতা প্রকাশ্যে আসে, তা দেখে শিহরিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। খুনিরা বান্টির মুখমণ্ডল ও চোখ এতটাই থেঁতলে দিয়েছিল যে তাকে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। নিহতের ডান হাতে থাকা উল্কিটি পর্যন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলা হয়। ইট ও পাথর দিয়ে আঘাত করে তাকে অমানুষিক কায়দায় হত্যা করা হয়।
মনি ও রবিশের বিলাসবহুল জীবনযাপনও এখন পুলিশের নজরে। অবৈধ মদের কারবার থেকে অর্জিত অর্থে তারা দামী গাড়ি ও বাইকের শৌখিন জীবন উপভোগ করত বলে খবর। খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের সাথে এনকাউন্টারে ধরা পড়েছে রবিশ কুমার ওরফে বিসিয়া। তবে এই গোটা ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড মনি কিন্নর এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে।
পুলিশ এখন মনি কিন্নরের বিপুল সম্পত্তির উৎস, তার নেটওয়ার্কে জড়িত বাকি সদস্য এবং আন্তঃরাজ্য মদ চোরাচালানের যোগসূত্র খুঁজতে মরিয়া। পাটনার বুকে গড়ে ওঠা এই অপরাধী চক্রের প্রতিটি অলিগলি খুঁটিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। রাজনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলাটি এখন বিহার পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।