গাড়ির মাইলেজ নিয়ে আর চিন্তা নেই! নতুন নিয়মে জ্বালানি খরচ কমাবে সরকার

ভারতের অটোমোবাইল শিল্পে দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে ‘কর্পোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমি’ বা CAFE-III প্রবিধানের অধীনে নতুন খসড়া নীতিমালা জারি করেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। এই পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন কোম্পানিগুলো দূষণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে, তেমনই সাধারণ গ্রাহকরাও সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়িতে পাবেন উন্নত প্রযুক্তির সুবিধা।

CAFE-III প্রবিধানের মূল লক্ষ্য হলো কার্বন নিঃসরণ কমানো। এতদিন গাড়ি নির্মাতারা মূলত হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর জোর দিচ্ছিলেন। তবে নতুন এই খসড়া নীতিমালার ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো আরও বেশি স্বাধীনতা পাবে। খসড়া বিধিতে যে প্রযুক্তিগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অটোমেটিক স্টার্ট-স্টপ সিস্টেম, টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS), রিজেনারেটিভ ব্রেকিং, উন্নত সিক্স-স্পিড গিয়ারবক্স, হাই-এফিসিয়েন্সি অল্টারনেটর, সৌর-প্রতিফলক পেইন্ট এবং এলইডি লাইটিং।

বর্তমানে এই সুবিধাগুলো মূলত কেবল প্রিমিয়াম বা দামী গাড়িগুলোতে দেখা যায়। তবে সরকারের এই নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এন্ট্রি-লেভেল বা ছোট ও মাঝারি সাইজের গাড়িগুলোতেও এই প্রযুক্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উৎসাহিত হবে। এর ফলে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি উপকৃত করবে ভারতের গাড়ি ব্যবহারকারী মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে।

নতুন নিয়মের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো ‘ক্রেডিট’ বা ছাড়ের ব্যবস্থা। খসড়া অনুযায়ী, যে সমস্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করবে, তারা প্রতি কিলোমিটার কার্বন নিঃসরণে সর্বোচ্চ ১ গ্রাম পর্যন্ত ছাড় পেতে পারে। কোম্পানিগুলো চাইলে একাধিক প্রযুক্তি একত্রিত করে এই সুবিধা নিতে পারবে। তবে এর একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হবে যাতে নিরাপত্তার মান বজায় থাকে। সরকারের এই নমনীয়তা কোম্পানিগুলোকে ইঞ্জিনের ক্ষমতা পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের অটোমোবাইল বাজারে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি কেবল কার্বন নিঃসরণই কমাবে না, বরং ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহনের চাহিদাও বাজারে বাড়িয়ে তুলবে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির পাশাপাশি জ্বালানি-সাশ্রয়ী সাধারণ গাড়ির প্রসার ঘটলে ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সহজতর হবে। সব মিলিয়ে, সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি অটোমোবাইল খাতে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি আর সাশ্রয়ী মাইলেজ থাকবে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে।