গ্রীষ্মের মরসুমে বাঙালির পাতে আম থাকা চাই-ই চাই। কিন্তু গত কয়েকদিনে আম প্রেমীদের মনে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনিয়েছে একটি খবরকে কেন্দ্র করে—ভারতের আমে নাকি মিলেছে অত্যধিক কীটনাশক! খবর ছড়িয়েছে যে, এই কারণে নেপাল ও জাপানের মতো দেশ ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সংবাদের সত্যতা কতটা? সত্যিই কি আমাদের প্রিয় ফলের গায়ে লেগে আছে বিষ?
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক। মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, নেপালে ভারতীয় আম রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। ভারত থেকে নেপালে আম রফতানি স্বাভাবিক গতিতেই চলছে এবং আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি হয়নি। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, ভারতীয় আমের ওপর কোনো বিধিনিষেধ চাপানো হয়নি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ভারত নেপালে ২,০০৫ টন আম রফতানি করেছে। শুধুমাত্র জুন মাসেই ১৮টি চালানের মাধ্যমে ২৬৬ টন আম নেপালে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে দুই দেশের মধ্যে ফল বাণিজ্য অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে, নেপাল তাদের আমদানি নীতিতে কিছু নতুন নিয়ম ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত যোগ করেছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, ফলের গুণমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকে ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট’ বা গরম জলে বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম মেনে চললে আম আমদানিতে কোনো অসুবিধাই নেই।
অন্যদিকে, জাপানের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। জাপান তাদের নিজস্ব উদ্ভিদ সুরক্ষা ও মানদণ্ড অনুযায়ী কিছু প্রক্রিয়াকরণের ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল, যা সাময়িক। কৃষি মন্ত্রক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছে যে, কোনো গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি খবরের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা করা উচিত। কৃষকদেরও বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রক। অর্থাৎ, বাজারে থাকা ভারতীয় আম নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।





