উত্তরবঙ্গে পুরোদমে বর্ষার প্রবেশ ঘটেছে, আর শুরু হয়েছে তার রূপালি তান্ডব। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বর্ষণ আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানা গেছে। মৌসুমী বায়ুর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যেই বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, আজ জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলোতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সতর্কতা বজায় থাকছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত প্রতিটি জেলাতেই বৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এখানে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মাঝেই মিলছে বৃষ্টির হাতছানি। দক্ষিণবঙ্গে আগামী সাত দিন বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে আজ পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের ৮টি জেলায় কালবৈশাখীর লাল সংকেত জারি করা হয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং হুগলিতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী আছড়ে পড়তে পারে।
কলকাতার আবহাওয়া আজ সকাল থেকেই গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে ভরপুর। তবে দুপুরের পর শহরের আকাশ বদলে গিয়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। দিনের অন্যান্য সময়ে বৃষ্টি না হলে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকবে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ—উভয় ক্ষেত্রেই আগামী কয়েক দিন আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির এই ধারা জনজীবনে বেশ প্রভাব ফেলতে চলেছে। জনসাধারণকে বজ্রপাতের সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।





