রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের অস্থিরতা। জল্পনা ছড়িয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন নেতা তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম কি এবার ‘নব তৃণমূল’ ব্লকের দিকে ঝুঁকছেন? বুধবার সকাল থেকেই এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে অবশেষে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রাক্তন মেয়র, তবে তাঁর সংক্ষিপ্ত ও এড়িয়ে যাওয়া মন্তব্য জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বুধবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে যখন ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়, তখন তাঁর হাবভাব ছিল অত্যন্ত সতর্ক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বরং এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের বারবার করা প্রশ্নের জবাবে তিনি বারবারই একটি কথাই বলেন, “দয়া করে আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম কেন হঠাৎ এমন রহস্যময় আচরণ করছেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পৌঁছানো এবং তার প্রেক্ষিতে পুরসভার নেওয়া কড়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ হাকিম সাফ জানিয়ে দেন, “আমি এখন আর মেয়র নই, তাই আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছেন কেন?” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত এই নেতা কেন আজ শিবির বদলের জল্পনায় ইতি টানছেন না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিস্মিত।
সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সংখ্যা দ্রুতগতিতে ৬৫-তে পৌঁছাতে চলেছে। তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, এই পুরো কৌশলী পরিকল্পনার নেপথ্যে ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন ঘিরে চূড়ান্ত নাটকীয়তার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরে ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার এই অধিবেশনই হতে পারে তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান সমীকরণের টার্নিং পয়েন্ট। ফিরহাদ হাকিম ঠিক কোন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, কিংবা তিনি আদৌ তৃণমূলের মূল স্রেতে টিকে থাকেন কি না, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রাজ্যের আমজনতা।





