বিশ্বজুড়ে দাপট ব্রহ্মোসের! চিন-পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে ভারত কি এখন বিশ্বের নতুন ‘অস্ত্রাগার’?

সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ বর্তমান বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে এক অপ্রতিরোধ্য নাম হয়ে উঠেছে। এক সময় ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু সেই পরিচিতি কাটিয়ে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হওয়ার পথে। রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র আজ বিশ্বের প্রতিরক্ষা কৌশল বদলে দিয়েছে। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের ১৪টিরও বেশি দেশ এখন ব্রহ্মোস কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ব্রহ্মোসের চাহিদার কেন্দ্রবিন্দু:
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রহ্মোস নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদেরও চমকে দিয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: ২০২২ সালে ফিলিপাইন ভারতের সাথে প্রায় ৩,২০০ কোটি টাকার (৩৭৫ মিলিয়ন ডলার) চুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছে এবং এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এরপর ইন্দোনেশিয়া এবং অতি সম্প্রতি ভিয়েতনাম ভারতের সাথে প্রায় ৫,৩০০ কোটি টাকার (৬২০ মিলিয়ন ডলার) একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এখন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াও ব্রহ্মোস কেনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য: সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) তাদের সামুদ্রিক ও আকাশসীমার নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ব্রহ্মোসের মতো নির্ভুল প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র আমিরশাহির কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি এবং আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাও তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি অন্তর্ভুক্ত করতে প্রবল আগ্রহী। ভারতের ক্রমবর্ধমান এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ মোড়: রাশিয়াও এখন আগ্রহী!
সবচেয়ে নাটকীয় বিষয়টি হলো, ভারত রাশিয়ার সহযোগিতায় ব্রহ্মোস তৈরি করলেও, আজ খোদ রাশিয়া নিজেই ভারতের কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতার একটি বড় প্রমাণ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত এখন শুধু একটি ক্রেতা দেশ নয়, বরং একটি প্রযুক্তিগত নেতা হিসেবে স্বীকৃত।

ব্রহ্মোসের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ভারতের অর্থনীতিতে যেমন বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছে, তেমনি বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে ভারতের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করেছে। চিন বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর কাছে ব্রহ্মোস এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত আজ নিজের সামরিক শক্তি নিজেই বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের নিরাপত্তা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনে ব্রহ্মোস ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিকে কোথায় নিয়ে যাবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।