বিয়ের আগেই সব শেষ! লখনউয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল জগৎবল্লভপুরের অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামীর

বিয়ে নিয়ে সাজানো স্বপ্নের ডালি মুহূর্তের আগুনে ছাই হয়ে গেল। লখনউয়ের আলিগঞ্জের একটি কোচিং সেন্টারে সোমবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার মেয়ে অনামিকা সামন্ত এবং তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমারের প্রাণ। অনামিকার নিথর দেহ সোমবার সকালে তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা এলাকা। শোকের আবহ নেমে এল জগৎবল্লভপুর জুড়ে।
বছর সাড়ে তিন আগে অ্যানিমেশন শিখে লখনউতে পাড়ি দিয়েছিলেন অনামিকা। সেখানে একটি কোচিং সেন্টারে কাজ করার সুবাদেই আলাপ হয় সহকর্মী নীলেশ কুমারের সঙ্গে। আলাপ থেকে ভালোবাসা এবং তারপর বিয়ের সিদ্ধান্ত। আগামী নভেম্বর মাসেই তাঁদের চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে গত সোমবার লখনউয়ের সেই অগ্নিকাণ্ড তাঁদের স্বপ্নকে নিমেষে ধুলিসাৎ করে দেয়। ১৫ জন মৃতের তালিকায় ছিল এই হবু দম্পতির নাম।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনামিকা লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে কর্মরত ছিলেন এবং নীলেশ একই বিল্ডিংয়ের অন্য একটি অফিসে কাজ করতেন। সোমবার রাতে মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পৌঁছাতেই অনামিকার পরিবারের সদস্যদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে অনামিকার বাবা-মা, কাকা ও ভাই বিমানে লখনউ পৌঁছান। মর্গে গিয়ে নিজেদের মেয়েকে শনাক্ত করতে গিয়ে তাঁরা কার্যত ভেঙে পড়েন। আগুনের লেলিহান শিখায় অনামিকার দেহ এতটাই দগ্ধ হয়েছিল যে, মুখের সামান্য অংশ দেখে কোনওক্রমে তাঁকে শনাক্ত করতে হয় পরিবারকে।
ঘটনার পরই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। একটি বহুতল আবাসিক ভবনে কীভাবে দিনের পর দিন বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল? কেন সেখানে ছিল না পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ বা ফায়ার এক্সিট? নিয়ম মেনে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। যে বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছিল, সেখানে অ্যানিমেশন ট্রেনিং সেন্টারের পাশাপাশি ছিল পোষ্য প্রাণীর দোকান এবং আরও বেশ কিছু ব্যবসা। প্রাণের দায়ে অনেকেই সেইদিন উঁচু তলা থেকে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ১৫ জনের এই মর্মান্তিক পরিণতির পর দায়বদ্ধতা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। প্রশাসন কি এর সঠিক তদন্ত করবে, নাকি অকালেই ঝরে যাওয়া এই প্রাণগুলোর কোনো বিচারই পাওয়া যাবে না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে শোকাতুর গ্রামের মানুষের মুখে।