রেলযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন! স্টেশনে এবার স্যাটেলাইট ঘড়ি, নিরাপত্তা বাড়াতে নয়া প্রযুক্তি পূর্ব রেলের

নিরাপদ ও আধুনিক ট্রেন ভ্রমণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পূর্ব রেল তাদের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তন আনল। যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে নির্বিঘ্ন করতে মালদহ ডিভিশন জুড়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক আপগ্রেড সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মণীশ কুমার গুপ্তের তত্ত্বাবধানে এই পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে, যা সাধারণ যাত্রী এবং রেল পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

মালদহ ডিভিশনের নতুন সংযোজন হলো বরিয়ারপুর স্টেশনে জিপিএস প্ল্যাটফর্ম ঘড়ি। এটি সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত, ফলে সময় প্রদর্শনে কোনো ত্রুটির সুযোগ নেই। এতে স্টেশনে থাকা যাত্রীরা একেবারে নির্ভুল সময় পাবেন, ফলে সময়সূচির অভাবে ট্রেন মিস করার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি মিলবে। পাশাপাশি, ভাগলপুর-তিকানি সেকশনের গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিং গেটগুলিতে (১সি, ২সি এবং ৩সি) সড়ক পারাপারের নিরাপত্তাকে আগের চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী করা হয়েছে।

ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রেও রেল এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। নিউ ফারাক্কা স্টেশনের আরপিএফ অফিসে রেলনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং মণিগ্রাম রিলে রুম পর্যন্ত এই ইন্টারনেট পরিষেবা বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে স্থানীয় রেলকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন, যা ট্রেন পরিচালনায় আরও গতি আনবে। অন্যদিকে, গোড্ডা-কাটোয়ান সেকশনে বিশেষ কোয়াড কেবল পাতার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বিপ্যাক (BPAC) এবং ইউএফএসবিআই (UFSBI) ইউনিটগুলোকে নিরাপদ মিডিয়া নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে, যা সিগন্যালিং ত্রুটি কমিয়ে ট্র্যাকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঝকঝকে করতে ভাগলপুর পূর্ব প্যানেলে নতুন ২৫ ওয়াটের ভিএইচএফ (VHF) রেডিও সেট বসানো হয়েছে। এটি ট্রেন চলাচলের সময় স্পষ্ট এবং নয়েজ-মুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। এই ধরণের কারিগরি উন্নয়ন মূলত পর্দার আড়ালে থেকে রেলের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে তোলে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, “আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি সফরকে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া। জেনারেল ম্যানেজারের নির্দেশনায় আমরা ভূগর্ভস্থ কেবল আধুনিকীকরণ, ব্যাটারি প্রতিস্থাপন এবং ইলেকট্রনিক যোগাযোগ লাইনগুলিকে মজবুত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। এই প্রযুক্তিগত আপগ্রেডগুলি হয়তো সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু এগুলির সুফল হিসেবেই যাত্রীরা পাচ্ছেন সুরক্ষিত ট্র্যাক এবং সময়ানুবর্তী ট্রেন চলাচল।” এই পদক্ষেপগুলির ফলে পূর্ব রেলের সামগ্রিক পরিচালন ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হলো।