‘একি কাণ্ড খড়্গপুরে!’-লজের বন্ধ ঘর থেকে শিক্ষিকার মৃতদেহ উদ্ধার, পাশে অসুস্থ যুবককে নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য

খড়্গপুর শহরের ব্যস্ত গোলবাজার এলাকার একটি বেসরকারি লজ থেকে এক স্কুল শিক্ষিকার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই লজের একটি ঘর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে সেই ঘর থেকেই চরম অসুস্থ অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করা হয়, যাঁকে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে।

পুলিশি তদন্ত ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

খড়্গপুর টাউন থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই মহিলা পেশায় খড়্গপুরের একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন এবং তিনি বিবাহিতও বটে। তাঁর স্বামী পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই যুবক গোলবাজারের ওই লজে একটি রুম ভাড়া নেন। এর কিছু সময় পর সেখানে পৌঁছন ওই ৩৫ বছর বয়সি শিক্ষিকাও। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক বা পরিচয় ছিল।

বিষ খেয়ে আত্মহত্যার আশঙ্কা, চলছে তদন্ত

লজের ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া পরিস্থিতির ভিত্তিতে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দু’জনে একসঙ্গে বিষাক্ত কিছু খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। যার ফলেই ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি স্রেফ আত্মহত্যা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আসল সত্য সামনে আসবে।

ইতিমধ্যেই পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। লজের কর্মী, লজ কর্তৃপক্ষ এবং এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, লজের সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও মোবাইল ফোনের ডেটা সহ সমস্ত প্রযুক্তিগত প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।