ফুটবল বিশ্বের মহাযজ্ঞ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। একদিকে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দেশগুলোর আধিপত্য, অন্যদিকে এশিয়ার ফুটবলের ক্রমবর্ধমান উত্থান। এই প্রেক্ষাপটে এবার সকলের নজর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে। এশিয়ার ফুটবলের মান বজায় রাখতে তারা কি পারবে বড় শক্তিগুলোকে টেক্কা দিতে? বাড়ছে প্রত্যাশার চাপ, কিন্তু বাস্তব কি বলছে?
গত কয়েকটি বিশ্বকাপে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। বিশেষ করে জাপানের সুসংগঠিত ফুটবল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার লড়াকু মানসিকতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ২০২৬-এ বড় ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে লড়তে হবে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে।
কেন জাপানের ওপর প্রত্যাশা বেশি? জাপানের বর্তমান স্কোয়াডে ইউরোপীয় লিগে খেলা একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন। তাঁদের ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন এবং খেলার গতি বিশ্বের যেকোনো দলকে চাপে ফেলার ক্ষমতা রাখে। তবে নক-আউট স্টেজে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলা তাদের পুরোনো সমস্যা। এবার কি তারা সেই বাধা টপকাতে পারবে?
দক্ষিণ কোরিয়ার লড়াই: অন্যদিকে, সন হিউং-মিনের মতো বিশ্বমানের তারকাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের অদম্য জেদ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার ক্ষমতা তাদের বড় ভরসা। তবে বড় আসরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাদের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিক সীমারেখা ছাপিয়ে এখন বিশ্বমঞ্চে এশিয়ার ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দায়ভার জাপানি ও কোরীয় শিবিরের কাঁধে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ার জন্য এবার বিশ্বকাপ জয় বা ফাইনালে ওঠা কঠিন হলেও, কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের পথ প্রশস্ত করার দারুণ সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
এখন দেখার বিষয়, মেক্সিকো, আমেরিকা ও কানাডার মাটিতে বিশ্বকাপের আসর বসে কি ইতিহাস গড়তে পারে এই দুই এশীয় পরাশক্তি, নাকি বড় দলগুলোর দাপটে ম্লান হয়ে যাবে এশিয়ার স্বপ্ন?





