রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে কি বড়সড় ভাঙন আসন্ন? তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পাশাপাশি এবার দলের একাধিক সাংসদও তাঁদের সংস্পর্শে রয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন।
সাংসদদের দলবদলের জল্পনা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের জোরালো হয়েছে দলবদলের জল্পনা। এর আগে স্বয়ং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় দাবি করেছিলেন যে, লোকসভার অধিকাংশ তৃণমূল সাংসদ দলবদলের কথা ভাবছেন। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ঋতব্রতর এই দাবি জল্পনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও কোন কোন সাংসদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, সেই বিষয়ে নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আইনি লড়াই: বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত— ‘মূল তৃণমূল’ এবং ‘বিদ্রোহী তৃণমূল’। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দাবি করলেও, মূল তৃণমূল শিবির তাঁর এই দাবিকে মানতে নারাজ। এই পদ নিয়ে বিতর্ক পৌঁছিয়েছে আদালত পর্যন্ত। সূত্র মারফত খবর, ঋতব্রতর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসকদল। এমন টানাপোড়েনের মাঝেই সাংসদদের যোগাযোগের দাবি রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।
মমতাকে নিয়েই কি নতুন ছক? আশ্চর্যের বিষয় হলো, দল ভাগ হয়ে গেলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নরম সুর শোনা গিয়েছে বিরোধী দলনেতার কণ্ঠে। সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত জানান, তাঁদের বিধানসভা দলের ‘অ্যাডভাইজার’ বা উপদেষ্টা হিসেবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চান। দলগত ভাঙন সত্ত্বেও নেত্রীর পরামর্শ তাঁরা এখনও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করে ঋতব্রত ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ খুব দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঋতব্রতর এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঋতব্রতর এই বক্তব্য আগামিতে রাজ্যের রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।





