বিধানসভায় ধুন্ধুমার, মহিলা সুরক্ষা প্রকল্পে অনীহা কেন? সরব বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন

কেরল বিধানসভার অধিবেশনে মহিলা সুরক্ষা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উত্তাপ ছড়াল। সরকারি ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়ন। বিধানসভায় এই নিয়ে আলোচনার সুযোগ না মেলায় বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। স্পিকারের যুক্তি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন, তাই ফের আলোচনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে “আপত্তিকর ও দুর্ভাগ্যজনক” বলে অভিহিত করেছেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এলডিএফ সরকারের আমলে চালু হওয়া এই মহিলা সুরক্ষা প্রকল্পটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সামাজিক সুরক্ষা পেনশনের কাঠামোর আওতাতেই এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলা এবং রূপান্তরকামীরা সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। কে-স্মার্ট (K-SMART) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া মেনেই সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিজয়ন অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই মানবিক প্রকল্পটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন সঠিক যাচাই হয়নি, অথচ কে-স্মার্টের মাধ্যমে সমস্ত নথি পরীক্ষা করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সরকার কেন এটি চালিয়ে যেতে অনীহা দেখাচ্ছে?”
পরিসংখ্যান দিয়ে বিজয়ন জানান, বর্তমানে প্রায় ১৬ লক্ষ সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক কারণে লক্ষ লক্ষ আবেদনপত্র যাচাই সত্ত্বেও ফেলে রেখেছে। শুধু মালাপ্পুরম জেলা থেকেই ৮ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়ে রয়েছে। বিজয়নের মতে, গরিব মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার মতো বিষয়ে সরকারের এই কঠোর মনোভাব অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আশাবাদী যে সরকার হয়তো তার অবস্থান পরিবর্তন করবে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে পালটা অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী এলডিএফ সরকার তাদের কার্যকালের একদম শেষ পর্যায়ে এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা ভেবেছিল। সরকারি প্রতিনিধিদের দাবি, কোনো সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ ছাড়াই প্রকল্পটি তড়িঘড়ি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিরোধী দলনেতার সাফ বক্তব্য, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বাড়বে এটাই স্বাভাবিক, একে রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।