রামমন্দিরে দানবাক্স হাতানোর পর্দাফাঁস, রাতারাতি কোটিপতি অনুকল্প ও তাঁর শ্যালকের বিলাসী জীবনের রহস্য ফাঁস!

অযোধ্যার প্রাণকেন্দ্র রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দান-অনুদানের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। মন্দিরের দানপাত্র থেকে অর্থ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার আটজনের তালিকায় উঠে এসেছে অনুকল্প মিশ্র এবং তাঁর শ্যালক লভকুশ মিশ্রের নাম। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুকল্প মিশ্র এই দুর্নীতির মূল হোতা বলে চিহ্নিত হয়েছেন। মন্দিরে আসা ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা দলটিকেই তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
বাসভা গ্রামের বাসিন্দা অনুকল্প মিশ্রের গ্রামবাসী এবং প্রতিবেশীদের বয়ানে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর কাহিনী। গ্রামে অনুকল্পের তৈরি বাড়িটি স্থানীয় অন্য সব বাড়ির তুলনায় ঢের বেশি বিলাসবহুল। অথচ কিছুদিন আগেও এই পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছিল। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে তাঁদের জীবনযাত্রায় যে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে, তা সাধারণ আয়ের মানুষের পক্ষে অসম্ভব। গ্রামের অনেকেই তাঁকে ভালো মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ।
তদন্তে জানা গেছে, ব্যাঙ্কের আউটসোর্সিং বিভাগের কর্মী অনুকল্প প্রায় তিন বছর আগে মন্দির চত্বরে অর্থ গণনার কাজ শুরু করেন। নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ব্যাঙ্কের এজেন্সির মাধ্যমেই নিজের শ্যালক লভকুশকে একই কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। লভকুশ রুদাউলি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকলেও সম্প্রতি এক লক্ষ টাকারও বেশি দামের একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। এছাড়া অনুকল্পের নামে গত বছর অযোধ্যায় ৬৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কেনা এবং নতুন এসইউভি কেনার প্রচেষ্টায় পুলিশের সন্দেহের তীর আরও জোরালো হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল অনুকল্পের গ্রামে আয়োজিত এক সাত দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের উপস্থিতিতে অনুকল্পের সাথে তাঁর তোলা ছবি ভাইরাল হয়েছে। অযোধ্যার মেয়র এবং জেলা পঞ্চায়েত সভাপতির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির জৌলুস বাড়ালেও, এখন প্রশ্ন উঠছে এত বিপুল খরচের উৎস কী? অনুকল্পের দাদা রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র দাবি করেছেন, তিনি মন্দির চুরির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে পুলিশ এখন অভিযুক্ত আটজনেরই স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখছে। পবিত্র মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় নিযুক্ত ব্যক্তিরাই যখন চোরের ভূমিকা নেয়, তখন বিশ্বাসের ভিত্তি কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।