২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬— হ্যাটট্রিক! নন্দীগ্রামের মাটি ফের একবার দু’হাত উজাড় করে আশীর্বাদ করেছে ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীকে। বুধবার সেই জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতেই নিজের খাসতালুকে পা রাখলেন রাজ্যের নবনির্বাচিত ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নন্দীগ্রামে পা রাখা মাত্রই কর্মী-সমর্থকদের জনজোয়ারে ভাসলেন তিনি। আর সেই উন্মাদনার মাঝেই আগামীর রণকৌশল এবং আসন ছাড়া নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন তিনি।
২০২৬-এর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন নন্দীগ্রাম আসনে ৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন, তেমনই ভবানীপুর উপকেন্দ্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ভোটে হারিয়ে রাজনৈতিক মহলে চমক দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ১০ দিনের মধ্যে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে। জল্পনা তুঙ্গে— তবে কি প্রিয় নন্দীগ্রাম ছাড়বেন শুভেন্দু? এদিন স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের ঋণ আমি শোধ করবই। তবে দল ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমাকে মানতে হবে। আমি শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মী, একা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।” তবে আসন যা-ই ছাড়ুন না কেন, উন্নয়নের প্রশ্নে এক ইঞ্চি জমিও যে তিনি ছাড়বেন না, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন ২০১১-র স্মৃতি মনে করিয়ে। তিনি আশ্বাস দেন, হলদিয়া-নন্দীগ্রাম ব্রিজ থেকে শুরু করে সোনাচুরায় আইটিআই এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল— সব কাজই সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তাঁর ঘোষণা, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলের পাইপ পাততে দেননি, আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রত্যেক ঘরে পানীয় জল পৌঁছে যাবে।”
একই সঙ্গে কর্মীদের সংযত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের হিংসার রাজনীতির পাল্টা হিসেবে তিনি বলেন, “ওরা যা করেছে, আপনারা তা করবেন না। ওদের পার্টি অফিসে হাত দেবেন না, উপেক্ষা করুন। আমরা রাজ্যে এমন কাজ করব যে আগামী ১০০ বছর এখানে পদ্ম থাকবে এবং আমরা ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পাব।” বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানান, আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই। পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে সমস্ত ‘চোর ও গুন্ডাদের’ বিচার করা হবে। বিএনএস (BNS) ধারায় পুরনো সব মামলা খুলে প্রকৃত দোষীদের সাজা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। ৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “এবার রাজ্যে আসল পরিবর্তন হল। দুর্গাপূজা, রামনবমী, রথযাত্রা— সব উৎসব এবার বুক চিতিয়ে পালিত হবে।”





