ভারতীয় রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে মাঝে মাঝে এমন সব ঘটনা ঘটে যা কল্পনাকেও হার মানায়। এবার তেমনই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল গুজরাটের দাহোদ জেলা। সাধারণত রাজনীতির ময়দানে দলবদল জলভাত হলেও, একই সঙ্গে তিনটি প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী হওয়া— এমন ঘটনা এর আগে শুনেছেন কি কেউ?
গুজরাটের দাহোদ জেলা পঞ্চায়েতের ‘পিপেরো’ আসনে ঠিক এই কাণ্ডই ঘটিয়েছেন স্থানীয় নেতা ভরত সিং ভাখালা। নির্বাচনী স্ক্রুটিনিতে দেখা গিয়েছে, ভরত সিং একই সঙ্গে বিজেপি (BJP), কংগ্রেস (INC) এবং আম আদমি পার্টি (AAP)-এর হয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ভোটার থেকে শুরু করে পোড়খাওয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সবারই চোখ কপালে।
এক আসনে ‘ত্রিবেণী সঙ্গম’!
পিপেরো আসনটি বরাবরই হেভিওয়েট নেতা বাচ্চুভাই খাবাদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবারের জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই কেন্দ্রে রীতিমতো ‘পলিটিক্যাল থ্রিলার’ শুরু করেছেন ভরত সিং। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ‘আপ’-এর টিকিটে লড়ে বিজেপিকে বেশ বিপাকে ফেলেছিলেন। দলবদলের দীর্ঘ ইতিহাসে ভরত সিং-এর জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি তিনি কংগ্রেস থেকে আম আদমি পার্টিতে এবং পরে বিজেপির শিবিরে ভিড়েছেন বলে খবর ছিল। কিন্তু মনোনয়নের দিন তিনি যা করলেন, তা এক কথায় অভাবনীয়।
অঙ্কের হিসাবে প্রশাসনিক গোলকধাঁধা
পিপেরো আসনে মোট ১১টি মনোনয়ন পত্র জমা পড়েছে। প্রশাসনিক তথ্যের হিসাবটা ঠিক এইরকম:
বিজেপি: ৫টি ফরম (যার মধ্যে একটি ভরতের)
কংগ্রেস: ২টি ফরম (যার মধ্যে একটি ভরতের)
আম আদমি পার্টি: ১টি ফরম (সেটিও ভরতের)
অন্যান্য: নির্দল ও বিআরপি প্রার্থী।
অর্থাৎ, প্রধান তিনটি দলই প্রযুক্তিগতভাবে এবং নথিপত্র অনুযায়ী ভরত সিং-কেই তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পেয়েছে।
শেষ হাসি হাসবেন কে?
তবে মনোনয়ন জমা দিলেই লড়াই নিশ্চিত নয়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনও প্রার্থীর মনোনয়ন তখনই সংশ্লিষ্ট দলের হয়ে বৈধ হবে, যদি সেই দল তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘ফরম-বি’ বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র প্রদান করে।
স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, আসল চিত্র স্পষ্ট হবে আগামী ১৫ এপ্রিল। কারণ ওই দিনই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ওই দিনই জানা যাবে ভরত সিং শেষ পর্যন্ত কোন দলের ‘বি-ফরম’ জমা দেন এবং কাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আপাতত দাহোদের পিপেরো আসনটি সারা দেশের নজর কেড়েছে। সবাই এখন একটাই প্রশ্ন করছেন— ভরত সিং আসলে কার?





