পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন রাজ্য রাজনীতির আবহ সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ কয়েক দশকের লড়াইয়ের পর বাংলায় পদ্ম ফোটানোর খুশিতে যখন আত্মহারা বিজেপি শিবির, ঠিক তখনই মেজাজি মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। জয়ের উল্লাস ছাপিয়ে তাঁর গলায় শোনা গেল তীব্র শ্লেষ এবং আক্রমণ। বিশেষ করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে একের পর এক বিস্ফোরক তোপ দাগলেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের ‘অত্যাচার ও দুর্নীতি’র যোগ্য জবাব দিয়েছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি আছে বলেই তোমরা আজও বেঁচে আছো। আইনের শাসন আসছে, এবার প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষের এই ‘বেঁচে থাকা’ সংক্রান্ত মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিজেপির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণেই বিদায়ী শাসকরা এখনও সুরক্ষিত, নচেৎ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তাদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিত।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া আক্রমণ করেন দিলীপ। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল এখন একটি ‘কর্পোরেট হাউসে’ পরিণত হয়েছে যেখানে জনসেবার কোনও স্থান নেই। রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন এবং তারপর থেকেই শুরু হবে ‘আসল শুদ্ধিকরণ’। যারা গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের সম্পদ লুঠ করেছে এবং সাধারণ কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পরবর্তী সরকার গঠনের পর তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। দিলীপ ঘোষের মতে, “বাংলার মানুষ এবার মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। আমরা এমন কাজ করব যাতে আগামী ১০০ বছর বিজেপি এই রাজ্যে রাজত্ব করে।” তাঁর এই মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই রুদ্রমূর্তি আসলে তৃণমূলের বিসর্জনের চূড়ান্ত সুর।





