‘বিজেপির বিদ্বেষের রাজনীতির করুণ পরিণতি’, এনআরসি আতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (NRC) এবং স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে তৈরি হওয়া আশঙ্কার আবহেই একের পর এক প্রবীণের আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার চেষ্টার খবর সামনে আসায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রদীপ কর (৬৩) নামে এক প্রবীণ আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই তিনি এনআরসি-র আতঙ্কে ভুগছিলেন এবং নিজের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন ছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনের ঘোষণা থেকেই তাঁর মনে ভয় তৈরি হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র আক্রমণ:

এই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে বিজেপির ‘ভয়, বিভাজন এবং ঘৃণার রাজনীতির করুণ পরিণতি’ বলে উল্লেখ করেন।

“বিজেপির ভয়, বিভাজন এবং ঘৃণার রাজনীতির করুণ পরিণতি আমরা প্রত্যক্ষ করছি। নির্বাচন কমিশন বাংলায় SIR ঘোষণা করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে,”— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ:

ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব সরাসরি এনআরসি আতঙ্কের রাজনীতিকেই প্রদীপ করের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছে। তাঁদের অভিযোগ, “প্রদীপবাবুর মৃত্যু কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এনআরসি–র নামে বিভ্রান্তি ও ভয় ছড়ানোর রাজনীতির ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।”

দলীয় সূত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এসআইআর (SIR)-এর মাধ্যমে রাজ্যে গোপনে এনআরসি কার্যকর করার চেষ্টা চলছে, যা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পরই রাজ্যে নথিপত্র সংক্রান্ত উদ্বেগ ও রাজনৈতিক চাপান-উতোর আরও বাড়ল।