বিচারকের হস্তক্ষেপে উত্তপ্ত আদালত! কেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠল এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে?

নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে শুক্রবার আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাসপাতালের শয্যা থেকে কালো সানগ্লাস পরে ভার্চুয়ালি হাজির ছিলেন। তার পাশাপাশি অশোক সাহা, এসপি সিং এবং প্রসন্ন রায়ও ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন।
এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যানের জবানবন্দি
শুনানির প্রথম দিনে এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে জেরা করা হয়। তিনি জানান, তৃণমূলের শিক্ষা সেলের সভাপতি এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে তার পরিচয় ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাকে চেয়ারম্যান পদে যোগদানের কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি তার জবানবন্দিতে বলেন, পদে থাকাকালীন তিনি প্রবল চাপের মুখে পড়েছিলেন। মুকুল রায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দিক থেকেও বেআইনি নিয়োগের জন্য তার ওপর চাপ আসে। অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি ২০১৩ সালে পদত্যাগ করেছিলেন।
আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি যুক্তি
এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পর আদালতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
পার্থর আইনজীবী: সঞ্জয় দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর নাম এই মামলায় টেনে আনার বিরোধিতা করেন। বিপ্লব গোস্বামী অভিযোগ করেন যে, সাক্ষী রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সাক্ষী বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ইশতেহার কমিটির সদস্য ছিলেন। এই বিষয়টিকে তুলে ধরে আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, তিনি কি বিজেপিকে খুশি করতে সিবিআইকে পার্থর নাম বলেছেন?
বিচারকের হস্তক্ষেপ: বিচারক বিশ্বরূপ শেঠ একাধিকবার হস্তক্ষেপ করে জানান, কেবল মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়েই প্রশ্ন করা হবে। তিনি সাক্ষীর কাছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের চাপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। জবাবে সাক্ষী জানান, একবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরাজুরি করেছিলেন, যা তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেননি।
এই দিনের শুনানি শেষে বিচারক জানান, বিচারপ্রক্রিয়া শনিবারও চলবে। সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।