ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা এবং শহরের যানজট ও আইন-শৃঙ্খলার সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল বারাণসী পুরনিগম। আগামী ৬ মাসের মধ্যে শহরের মূল এলাকা থেকে মাছ ও মাংসের দোকানগুলি সরিয়ে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় এবার বসানো হবে ফলের বাজার।
কেন নেওয়া হলো এই সিদ্ধান্ত? বারাণসী বরাবরই তার আধ্যাত্মিক পরিবেশের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশেষ করে পবিত্র ‘শ্রাবণ মাস’ বা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময় শহরের মূল রাস্তাগুলিতে মাছ ও মাংসের দোকান খোলা রাখা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই ক্রেতা, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এই দোকানগুলির কারণে যেমন যানজট সৃষ্টি হতো, তেমনি ধর্মীয় আবেগের বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন সময় আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতো। এই সমস্ত সংকটের একটি স্থায়ী ও নিরপেক্ষ সমাধান খুঁজতেই প্রশাসন এই মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কী থাকছে এই নতুন পরিকল্পনায়?
নির্দিষ্ট এলাকা: মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য শহরের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হবে, যেখানে সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
ফলের বাজার: মূল শহরের যে জায়গাগুলোতে আগে মাছ-মাংসের দোকান ছিল, সেখানে পরিবেশবান্ধব ফলের বাজার গড়ে তোলা হবে। এতে শহরের সৌন্দর্য বাড়বে এবং পর্যটকরাও উপকৃত হবেন।
সময়সীমা: আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পুরনিগম।
ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের অবস্থান: পুরনিগমের এই সিদ্ধান্তে এক বড় অংশের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও, ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ব্যবসায়ীদের জীবিকায় যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্রুতই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানান্তরের বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
বারাণসীর এই রূপান্তর আগামী দিনে পবিত্র এই শহরের ভাবমূর্তি বজায় রাখার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পকেও আরও বেশি গতিশীল করবে বলে আশা করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও নগর বিশেষজ্ঞরা।





