জমি জালিয়াতি এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলো মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে। রবিবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারির প্রেক্ষাপট: শনিবার সন্ধ্যায় খড়্গপুর থেকে সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের ধারণা, গ্রেপ্তারির আগে গা-ঢাকা দেওয়ার জন্য তিনি অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। জমি কেলেঙ্কারি এবং তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর ওপর নজর রাখছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত শনিবার পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি।
আদালতে বিক্ষোভের ছবি: রবিবার সুজয় হাজরাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদালত চত্বরে আগে থেকেই জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। প্রাক্তন বিধায়ককে দেখামাত্রই তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। এমনকি বেশ কিছু বিজেপি কর্মীর হাতে ডিম দেখা গেলেও, পুলিশের কঠোর তৎপরতার কারণে বড় কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি। তবে আদালত থেকে বের করার সময় পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পরিস্থিতি সামাল দিতে।
রাজনৈতিক পরিচিতি: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে বিজেপির শঙ্কর গুছাইতের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন সুজয় হাজরা। পরবর্তীকালে তাঁকে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে বসানো হয়। এরপর ২০২৪ সালে জুন মালিয়া সাংসদ নির্বাচিত হলে শূন্য আসনে উপনির্বাচনে সুজয় হাজরা তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে এহেন প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারিতে তৃণমূলের অন্দরে ও মেদিনীপুর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
৮ দিনের এই পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে আর কোন কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





