জুন মাসের শুরুতেই সাধারণ মানুষের হেঁশেলে রান্নার গ্যাসের দামে মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের আকাশছোঁয়া দাম এবং অন্যদিকে গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দামের অবস্থান, সব মিলিয়ে সাধারণ মধ্যবিত্তের বাজেট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। গত ১ জুন তেল বিপণন সংস্থাগুলো ১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগের ছায়া পড়েছে। তবে, আজ ৪ জুন দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য বা গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে আপাতত নতুন কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে গৃহস্থালির গ্যাসের দাম ৯১০.৫০ টাকা থেকে ৯৫০.৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে দেশের বেশ কিছু প্রান্ত, যেমন—পাটনা, শ্রীনগর, লেহ, ইম্ফল এবং গ্যাংটকের মতো শহরগুলোতে গৃহস্থালির গ্যাসের দাম আগেই হাজার টাকার গণ্ডি পার করে ফেলেছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধির ফলে রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসার খরচ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৪২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০৭১.৫ টাকা এবং ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৯১৩ টাকা। মুম্বাইতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০২৪ টাকায় এবং গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৯১২ টাকা। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩২০২.৫ টাকা এবং গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকা। চেন্নাইতে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৩২৩৭ টাকা এবং গৃহস্থালির গ্যাসের দাম ৯২৮.৫ টাকা।
নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল। পাটনায় গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ১০০২.৫ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৩৩৪৭ টাকা। শ্রীনগরে গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম ১০২৯ টাকা। এছাড়া লেহ ও গ্যাংটকের মতো পার্বত্য অঞ্চলে গৃহস্থালির সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে যথাক্রমে ১০৬৪.৫ টাকা ও ১০৬৫.৫ টাকা। সব মিলিয়ে, বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দেওয়া তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। গৃহস্থালির গ্যাসের দামে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় থাকলেও, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বাড়তি খরচ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





