বিপাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বাংলাদেশের খুনি সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস করে সাইবার ক্রাইমে দায়ের এফআইআর

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অস্বস্তি যেন ক্রমশই বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের বিতর্কিত ওসমান হাদি হত্যা রহস্য এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য জনসভায় প্রকাশ করার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করা হলো। অভিযোগ জানিয়েছেন আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং।

গত ২ জুন ধর্মতলায় আয়োজিত একটি ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেন, তা ঘিরেই এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। ধরনা চলাকালীন মমতা অভিযোগ করেন, গত জানুয়ারি মাসে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ওপার বাংলার বিতর্কিত খুনি ওসমান হাদির হত্যাকারীরা এ রাজ্যে প্রবেশ করেছিল। রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাদের গ্রেপ্তারও করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই গোটা ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জড়িত। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে STF গ্রেপ্তার করেছিল। ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন… এতদিন বলিনি, আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম।”

একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রের প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত এমন গোপনীয় বিষয় জনসভায় কীভাবে ফাঁস করতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং। অভিযোগকারীর মতে, এই ধরনের মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। এর আগেও গত সপ্তাহে এই একই বিষয়ে আইনজীবী রিঙ্কি সিং সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৫২ (দেওয়ানি কার্যবিধি), ১৫৩ ও ১৫৩(এ) (ধর্ম বা জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানো), ১৯১ ও ১৯২ (হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা), ১৯৬ (জনসম্প্রীতি নষ্ট) এবং ৩৫১ ও ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা)। এই ধারাগুলির ভিত্তিতে এখন আইনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন এই মামলা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর করা এই বিস্ফোরক দাবি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়েও তদন্তের প্রয়োজন বোধ করছেন বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy