‘বাঁচাও-বাঁচাও’ চিৎকার যুবকের, রক্তাক্ত যুবককে উদ্ধার করলো পুলিশ, জেনেনিন কি হয়েছিল?

মর্নিং ওয়াকের সময় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনে স্থানীয় গ্রামবাসীরা গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করলে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের রসুনপুর গ্রামের কাছে শিবগ্রাম-ষাটপলশা রাজ্য সড়কে এই ঘটনা ঘটেছে। গ্রামবাসীদের তৎপরতায় গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায় চালক ও খালাসি। পরে পুলিশ এসে আহত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রাতভ্রমণকারী বিজয়া মণ্ডল, ববি গুঁই এবং গৌর সাহা জানান, অন্যদিনের মতো তারা হাঁটছিলেন। হঠাৎ একটি পিকআপ ভ্যান থেকে কোনো নারীর চিৎকার ভেবে তারা প্রথমে হকচকিয়ে যান। পরে উচ্চস্বরে চিৎকার করে স্থানীয়দের জড়ো করেন। গ্রামবাসীরা ছুটে এলে গাড়ির চালক ও খালাসি পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর গ্রামবাসীরা গাড়ির ডালা খুলে দেখতে পান, এক রক্তাক্ত যুবক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
গ্রামবাসীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁইথিয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আহত যুবকের নাম সুজিত দাস, যিনি মুর্শিদাবাদের মহেশগ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এদিন ভোরে সুজিত মোটরবাইকে করে সাঁইথিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। ময়ূরেশ্বরের বরুটিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিউড়ি-বহরমপুর সড়কে তার মোটরবাইকের সঙ্গে একটি পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে সুজিত ছিটকে পড়ে যান এবং জ্ঞান হারান।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, চালক ও খালাসি প্রথমে সুজিতকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পরে হয়তো তাকে মৃত ভেবে ঝামেলা এড়াতে গোপনে কোথাও ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে গাড়ির ভেতরে জ্ঞান ফিরে পেয়ে সুজিত চিৎকার করায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক এবং একই সঙ্গে মানবিকতার উদাহরণ দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার বদলে আহত ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি রহস্যের জন্ম দিয়েছে, যার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।