বাঙালিদের “অপমান” ও “সম্মান” রক্ষার দাবিতে দিল্লির রাজপথে অভিষেক!

দিল্লির রাজপথে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ভোট চুরি এবং বাঙালিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলেন ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যান্য শরিক দলের সদস্যরাও। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেকের নেতৃত্বে প্রতিবাদ
এই বিক্ষোভকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে অভিষেকের উপস্থিতি। একদিকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোতে বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। অন্যদিকে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার যে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে উঠছে, তাও এই প্রতিবাদে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবাদে অংশ নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ গোটা দেশজুড়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। ভোট লুট হচ্ছে, বিরোধীদের হেনস্তা করা হচ্ছে, আর বাংলার মানুষ, বিশেষ করে বাঙালিদের ওপর চলছে পরিকল্পিত নির্যাতন। আমরা চুপ করে থাকব না।” তিনি আরও জানান, সংসদে তাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে, তাই তারা রাজপথে নেমে দেশবাসীকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলছেন।

বাঙালির অপমান নিয়ে সোচ্চার তৃণমূল
তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “বাঙালিদের নিয়ে বারবার কটাক্ষ করা হচ্ছে। বিজেপি নেতারা এমন ভাষায় কথা বলছেন, যা শুধু অপমানজনক নয়, তা একটি সম্প্রদায়ের মানসিকতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে অপমান করছে। আজ আমরা তারই প্রতিবাদে এখানে।”

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “বাঙালিকে অপমান বন্ধ করো”, “ভোট চুরি চলবে না”, “গণতন্ত্র বাঁচাও”। সাংসদরা বাংলা ভাষায় স্লোগান দিয়েছেন, “বাঙালির অপমান মানি না, মানব না।”

ইন্ডিয়া ব্লকের সংহতি
সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সাংসদেরাও এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই লড়াই শুধু বাঙালির অপমানের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর রক্ষার লড়াই। এটি ভারতীয় গণতন্ত্রকে রক্ষার সামগ্রিক লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে অভিষেকের এই ধরনের নেতৃত্ব বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারে।