বাঁকড়া মসজিদে নমাজ ঘিরে বিতর্ক, প্রতিবাদ থেকে সরে এলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থিত বাঁকড়া মসজিদকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। শুক্রবার মসজিদটিতে নমাজ পড়ার কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তা থেকে বিরত থাকলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা মসজিদ কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। এলাকা উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ সেখানে ১৬৩ ধারা জারি করেছে এবং মসজিদ চত্বরে নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

কী নিয়ে বিতর্ক? বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট দিয়ে এতদিন ভক্তরা মসজিদে প্রবেশ করতেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ হঠাৎই ওই গেটটি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মসজিদে প্রবেশের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সেখানে নমাজ পড়ার ডাক দিয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ ও বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অপারেশানাল জোনের অন্তর্গত হওয়ায় মসজিদটির চারপাশে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। স্থানীয় ইমামের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই স্থানে নমাজ পড়ার কোনো অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। বিধায়ককে বিকল্প জায়গায় নমাজ পড়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর হুঁশিয়ারি: প্রতিবাদ থেকে সাময়িকভাবে সরলেও, নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, “এয়ারপোর্ট অথরিটিকে আমরা পুনরায় চিঠি দেব। আমরা চাই এখানে নমাজ চলুক। কোনোভাবে যদি জোর করে মসজিদ ভাঙার চেষ্টা করা হয়, তবে রাজ্যের মানুষ এর চরম প্রতিবাদ করবে।”

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের যুক্তি: অন্যদিকে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তার খাতিরেই সাময়িকভাবে ৭ নম্বর গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তারা।

বর্তমানে এলাকাটি ঘিরে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছে পুলিশ। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গায় এই ধর্মীয় বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।