হামিরপুরের মন্দিরে তাণ্ডব! শিবলিঙ্গ ভেঙে মূত্রত্যাগ, জনতার হাতে ধরা পড়ল হাতিম

হামিরপুর জেলার এক শান্ত গ্রামের মন্দিরে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও নিন্দনীয় ঘটনা, যা কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকালের দিকে ভক্তরা যখন মন্দিরে পূজা দিতে আসেন, তখন তাঁদের চোখে পড়ে এক বীভৎস দৃশ্য। শিবলিঙ্গটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙা জিনিসপত্র এবং পুরো মন্দিরের ভিতরটা অপবিত্র করা হয়েছে। অভিযোগ, মহম্মদ হাতিম নামে এক যুবক মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করতে শিবলিঙ্গ ভাঙচুর করেন এবং মন্দিরের ভেতরেই মূত্রত্যাগ করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে গ্রাম জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত মহম্মদ হাতিমকে আটক করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটানোর পরও সে এলাকাতেই ঘোরাফেরা করছিল। ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।

বর্তমানে অভিযুক্তকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সে ওই এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশ প্রশাসন এই জঘন্য অপরাধের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে। সে কি কোনো নেশার প্রভাবে বা মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এমন কাজ করেছে, নাকি এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে—সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হন শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ। তাঁদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সমাজের ধর্মীয় অনুভূতির ওপর এক গভীর আঘাত। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবলিঙ্গ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং মন্দিরকে পুনরায় পবিত্র করার প্রক্রিয়া চলছে। আপাতত পূজা-অর্চনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, জনশান্তি ভঙ্গ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির করানোর পর তাঁকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।