বন্দুক ছেড়ে প্রবীণাকে কোলে তুলে নিলেন জওয়ান! ভোটকেন্দ্রে আরপিএফ-এর মানবিকতায় ভিজল চোখ

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে খাঁকি উর্দির এক অভাবনীয় মানবিক রূপ দেখল বাংলা। ৯৪ বছর বয়সী শান্তি দেবী (নাম পরিবর্তিত) যখন ক্লান্ত শরীরে ভোট দিতে এসে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাঁর ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন পূর্ব রেলওয়ের রেল সুরক্ষা বাহিনী বা আরপিএফ-এর এক যুবক জওয়ান। কোনো দ্বিধা না করে ওই প্রবীণাকে নিজের মায়ের মতো কোলে তুলে নিয়ে বন্ধুর পথ পেরিয়ে বুথের ভেতরে পৌঁছে দিলেন তিনি। শান্তি দেবীর উজ্জ্বল চোখ আর কৃতজ্ঞতা ভরা হাসিই বলে দিচ্ছিল, উর্দিধারীদের প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা আজ কতখানি।
সাধারণত আরপিএফ জওয়ানদের কাজ রেললাইন বা ট্রেনের সুরক্ষা দেওয়া হলেও, এবার নির্বাচনী ডিউটিতে তাঁদের এক গভীর সংবেদনশীল দিক ফুটে উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে বা শারীরিক অসুস্থতায় যাঁরা হাঁটতে পারছিলেন না, তাঁদের আগলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন এই জওয়ানেরা। খাড়া সিঁড়ি হোক বা অসমতল রাস্তা—বন্দুকের ভার সামলেও তাঁরা প্রবীণ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সযত্নে তাঁদের কোলে তুলে নিয়েছেন।
পূর্ব রেলওয়ের প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার (PCSC) অমিয় নন্দন সিনহার নির্দেশনায়, বাহিনী এবার নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তাকেও অগ্রাধিকার দিয়েছে। আরপিএফ-এর এই উদ্যোগ কেবল নিয়ম পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গণতন্ত্রের উৎসবে সাধারণ মানুষের মর্যাদা রক্ষায় এক নজিরবিহীন সেতুবন্ধন হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি দেবীর কথায়, “মনে হল ভগবানই ওকে পাঠিয়েছিলেন।” এই বাক্যটিই আজ বাংলার প্রতিটি বুথে কর্তব্যরত আরপিএফ জওয়ানদের প্রাপ্তি।