বড় স্বস্তি অভিষেক ব্যানার্জীর! মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের

মানহানির একটি হাই-প্রোফাইল মামলায় বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটির ওপর স্থগিতাদেশ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করে অভিষেক ব্যানার্জীর দায়ের করা আবেদনটি পুনরায় বহাল করেছে।
উল্লেখ্য, আইনি জটিলতায় গত ১৭ জুন হাই কোর্ট সাময়িকভাবে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছিল। আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে আদালত সেই সময় অভিষেক ব্যানার্জীর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিল। তবে বুধবারের শুনানিতে পুনরায় আবেদনটি গৃহীত হওয়ায় টিএমসি সাংসদ আইনি বড় স্বস্তি পেলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গিয়া ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। আকাশের অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় একটি নির্বাচনী জনসভায় অভিষেক ব্যানার্জী তাঁকে প্রকাশ্যে ‘গুণ্ডা’ বলে সম্বোধন করেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এই মামলার ভিত্তিতেই ভোপালের একটি আদালত অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
আদালতের ওই নির্দেশের পর সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি আবেদনে জানান, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি এবং সাংসদ হওয়ার সুবাদে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে তিনি হাই কোর্টে আবেদন করেন। গত ১২ই নভেম্বর, ২০২৫-এ আদালত প্রাথমিক শুনানির ভিত্তিতে সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
পরবর্তীতে গত ১৭ জুন আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে আদালত ওই স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। তবে বুধবার পুনরায় শুনানিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে হাই কোর্ট আগের স্থগিতাদেশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই টিএমসি শিবিরে স্বস্তির বার্তা দেখা দিয়েছে।