মাত্র ৮ ঘণ্টায় ধূলিসাৎ পাকিস্তানের দর্প! ভারতের ভয়ে কীভাবে যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল ইসলামাবাদ? ফাঁস করলেন প্রাক্তন সিডিএস!

প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহানের ‘অপারেশন সিঁদুর’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য সামরিক অভিযানটির এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ও অজানা চিত্র উন্মোচন করেছে যা এতদিন প্রায় গোপনেই রাখা হয়েছিল। জেনারেল চৌহানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ই মে সকালে পাকিস্তান হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করার জন্য ভারতের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঠিক সেই সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযানের অর্ধেকেরও কম অংশ সম্পন্ন হয়েছিল। এর স্পষ্ট অর্থ হলো, ভারতের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান চলাকালীনই পাকিস্তান চরম আতঙ্কিত হয়ে যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল। তবে ভারত তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানের এই কাতর অনুরোধে সাড়া দেয়নি। জেনারেল চৌহানের মতে, পাকিস্তানকে জেনেশুনেই দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করানো হয়েছিল, কারণ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত আক্রমণ তখনও বাকি ছিল।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে যখন ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের নেপথ্য কাহিনী একে একে উন্মোচিত হচ্ছে। জেনারেল চৌহান বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে জানান যে, ঘটনার মাত্র একদিন আগে অর্থাৎ ৯ই মে পাকিস্তান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার মতো বড় বড় হুংকার ও বিবৃতি দিচ্ছিল। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দাম্ভিকতার মোটে আট ঘণ্টা পরেই ইসলামাবাদ বাধ্য হয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আলোচনার জন্য আকুল আবেদন জানায়। ভারতের প্রাক্তন সিডিএস-এর মতে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুনির্দিষ্ট ও ধ্বংসাত্মক হামলায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল, তা ইসলামাবাদ আগেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল এবং ভারতের আরও বড় কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের আশঙ্কায় তারা সম্পূর্ণ দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। এদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য নিখুঁতভাবে অর্জনের দিকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তে দুই দেশের সামরিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ডিজিএমও হটলাইনের মাধ্যমে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির মরিয়া বার্তা আসে।
জেনারেল অনিল চৌহান একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের বিশেষ অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় জানান যে, ১০ই মে সকালে পাকিস্তানের এই অপ্রত্যাশিত ফোন কলটি ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পুরো অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। তিনি বলেন যে, পাকিস্তান যখন ডিজিএমও হটলাইনের মাধ্যমে আলোচনার জন্য প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করে, তখন ভারত সেই প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেয়নি। কারণ, ভারতের মূল সামরিক পরিকল্পনার অর্ধেক কাজ তখনও বাকি ছিল এবং ভারতীয় সেনার চূড়ান্ত আঘাত হানার পরিকল্পনা অপরিবর্তিত ছিল। জেনারেল চৌহান বলেন, “আমার জন্য সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল ১০ই মে সকালে পাকিস্তানের সেই ফোন কল। এর কারণ, ঠিক আগের দিন ৯ই মে তারা বিশ্বকে দেখাচ্ছিল যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তারা ভারতকে সোজা করে দেবে, অথচ মোটে আট ঘণ্টার মধ্যেই তাদের সুর বদলে গেল। অথচ তখন আমরা আমাদের পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনার অর্ধেকও সম্পন্ন করতে পারিনি।”
ভারত এই পরিস্থিতিতে প্রথমে তাদের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য অর্জনের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল। প্রাক্তন সিডিএস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের মূল লক্ষ্য কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জন করা ছিল না, বরং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী তাদের ঘোষিত প্রতিটি সামরিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। এই কৌশলগত লক্ষ্যের অংশ হিসেবে, পরবর্তী বেশ কয়েকটি আক্রমণের দফা আগেই নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে এই কড়া বার্তা দেওয়া যে, তাদের দেশের যেকোনো সামরিক স্থাপনাই আজ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ধ্বংসাত্মক নাগালের বাইরে নয়। জেনারেল চৌহান জানান যে, পাকিস্তান তাদের নিজস্ব আক্রমণকে কিছুটা কার্যকর মনে করলেও, ৯ই মে রাত এবং ১০ই মে সকালের ভয়াবহ ভারতীয় বিমান হানায় যে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা তাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। এর ফলে বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় এড়াতে এবং সংঘাত যাতে আরও তীব্র আকার ধারণ না করে, সেজন্য ইসলামাবাদ বাধ্য হয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে।
যুদ্ধের ময়দানে ভারত যে এক অভূতপূর্ব কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সুবিধা অর্জন করেছিল, তাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন জেনারেল চৌহান। তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বিক পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে বোঝা এবং তা দ্রুত মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি অত্যন্ত উন্নততর ও আধুনিক সক্ষমতা ছিল। এর ফলে ভারতীয় সামরিক কমান্ডাররা যেকোনো পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের সুনির্দিষ্ট হামলাগুলো ঠিক কী অর্জন করেছে এবং শত্রুপক্ষের কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের নিখুঁত ধারণা ছিল। যেহেতু আমাদের পুরো কমান্ড স্ট্রাকচার একই রিয়েল-টাইম চিত্র দেখছিল, তাই আমরা মুহূর্তের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলাম। আধুনিক যুদ্ধে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই হলো জয়ের মূল চাবিকাঠি, যাতে শত্রু সর্বদা চরম চাপের মুখে থাকে। আমরা ঠিক সেটাই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলাম।”
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৭ই মে তৎকালীন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছিল। এর আগে একই বছরের ২২শে এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরপরাধ ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এই কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের চরম ও উপযুক্ত জবাব হিসেবেই ভারত পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত অঞ্চলের মাটিতে সক্রিয় সমস্ত সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতীয় এই সাহসী ও নির্ভীক অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের প্রধান ঘাঁটিগুলিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চার দিনব্যাপী এক তীব্র সামরিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। অবশেষে ১০ই মে উচ্চপর্যায়ের ডিজিএমও স্তরের আলোচনার পর উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়। জেনারেল চৌহানের এই প্রকাশ করা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমাণ করে যে, অপারেশন সিঁদুর কেবল একটি সাধারণ সামরিক অভিযান ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় সেনার নিখুঁত রণকৌশলের কাছে এক পরাধীন ও ভীতু পাকিস্তানের ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ।