ইনস্টাগ্রামের বন্ধুত্বই কাল হলো বিধবার, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চলল পাশবিক নির্যাতন!

উন্নাওয়ের এক বিধবা নারীর জীবনের করুণ পরিণতি বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ঝুঁকিকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনেছে। কেবল তরুণ প্রজন্ম নয়, সাইবার অপরাধীদের মূল নিশানায় এখন সমাজের অসহায় মানুষগুলো। ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক কাল্পনিক বন্ধুত্ব যে একজন মহিলার জীবনকে জীবন্ত নরকে পরিণত করতে পারে, তা উন্নাওয়ের এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।
২০২৫ সালে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে শিবকুমারী নামের এক মহিলার সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। বিধবা এবং চার বছরের শিশুপুত্রের জননী এই নারীকে টার্গেট করে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। শিবকুমারী নিজেকে বিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরে ভুক্তভোগীকে নয়ডায় লোভনীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। ১০ই অক্টোবর, ২০২৫-এ গাদানখেড়া বাইপাস থেকে শিবকুমারীর ছেলে অতুল ও তার সহযোগী শচীন ভাটি ভুক্তভোগীকে গাড়িতে তুলে নয়ডায় নিয়ে যায়।
শুরু থেকেই ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে রাখা হয়। নয়ডায় পৌঁছানোর মাত্র চারদিনের মাথায়, ১৪ই অক্টোবর তাকে প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্ত অতুলকে কোর্ট ম্যারেজ করতে বাধ্য করা হয়। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় আসল নৃশংসতা। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে অন্য পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে চলত নির্মম মারধর ও নির্যাতন।
এই পাশবিক অত্যাচারের মধ্যেই ভুক্তভোগী এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু তাতেও অভিযুক্তদের মনে দয়া হয়নি। বরং তারা ভুক্তভোগীকে নিয়মিত মাদক খাইয়ে অচেতন করে বাইরের খদ্দেরদের কাছে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করত। নিরুপায় ভুক্তভোগী কোনোক্রমে গোপনে ফোন ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে নিজের ভাইকে খবর দিলে, পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর স্থানীয় থানায় ও পুলিশ সুপারের দপ্তরে অভিযোগ জানালেও কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রভাবশালী অভিযুক্তদের ভয়ে পুলিশ তখন নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশায় তিনি সিভিল জজ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের পর অবশেষে বিঘাপুর কোতোয়ালি পুলিশ শিবকুমারী, অতুল, তার মেয়ে, দেবর এবং শচীন ভাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে।