দুবাইয়ের মোড়কে লুকিয়ে পাকিস্তানি মাল! ভারতে পণ্য পাচারের এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র ফাঁস করল DRI!

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরেই সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ নয়। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও পাকিস্তান তার গোপন ও ঘৃণ্য কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে। এবার আরও একবার ভারতের ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স বা DRI-এর তৎপরতায় পাকিস্তানের সমস্ত অপকর্ম ও কূটচাল ফাঁস হয়ে গেছে। ভারত সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পাকিস্তান অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা দুবাইকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের বাজারে অবৈধভাবে পণ্য রপ্তানি করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দা দলগুলির নিখুঁত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে তাদের এই গভীর ষড়যন্ত্র ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং একটি বিশাল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI) সম্প্রতি একটি সফল অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে আমদানি করা প্রায় ৩৬৪ মেট্রিক টন শুকনো খেজুর বাজেয়াপ্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই গোপন অভিযানে ডিআরআই-এর অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা কান্দলা বন্দর থেকে ১৩টি কন্টেইনার বোঝাই এই বিশাল চালানের সন্ধান পান। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে যে, আমদানি নথিপত্রে এই খেজুরগুলি সংযুক্ত আরব আমিরাত বা দুবাই থেকে এসেছে বলে মিথ্যা দাবি করা হলেও, সেগুলি আদতে সরাসরি পাকিস্তান থেকে পাঠানো হয়েছিল।
পুরো অবৈধ বাণিজ্য চক্রের এই বড় খেলাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালিত হচ্ছিল। তদন্তে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, পাকিস্তান থেকে প্রথমে অত্যন্ত গোপনে এই খেজুরগুলি দুবাইয়ে পরিবহন করা হয়েছিল এবং তারপর সেখানকার একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অন্য কন্টেইনারে পুনরায় স্থানান্তর করে তা ভারতে রপ্তানি করা হয়। পাকিস্তান থেকে সমস্ত ধরনের পণ্য সরাসরি আমদানির ওপর ভারতের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্যই আমদানিকারকরা এই বেআইনি পথ বেছে নিয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, জাল কাগজপত্র তৈরি করা এবং পণ্যের আসল উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার স্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ফলস্বরূপ, ১৯৬২ সালের কাস্টমস আইনের প্রাসঙ্গিক ধারার কঠোর প্রয়োগ ঘটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ চালানটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
শুধু খেজুরই নয়, এর আগে গত সপ্তাহেই ডিআরআই কর্মকর্তারা তুতিকোরিন বন্দরে আরও একটি চাঞ্চল্যকর অপারেশন চালিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১৪ লক্ষ টন পাকিস্তানি গুগগুল রেজিন আমদানির গোপন চেষ্টা নস্যাৎ করেছিলেন। গুগগুল রেজিনের এই চোরাচালানটিকে সুকৌশলে সোমালিয়া থেকে আমদানিকৃত প্রাকৃতিক রেজিন হিসেবে মিথ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল এবং এটিও দুবাই হয়েই ভারতে পাঠানো হচ্ছিল। উল্লেখ্য, গুগগুল রেজিন বা কমিফোরা রেজিন হলো ভারত ও পাকিস্তানের শুষ্ক অঞ্চলের একটি অত্যন্ত দুর্লভ স্থানীয় প্রজাতি, যা সিআইটিইএস (CITES)-এর পরিশিষ্ট ২-এ তালিকাভুক্ত এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ বা IUCN রেড লিস্টে ‘মহাবিপন্ন’ (Critically Endangered) হিসেবে কঠোরভাবে শ্রেণীবদ্ধ।
তদন্তে আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই চালানে পাকিস্তান থেকে আসা গুগগুল রেজিন ছিল, যা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অন্য একটি দেশের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে পরিবহন করা হচ্ছিল। এই আন্তর্জাতিক চোরাচালান ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর গত ০২.০৫.২০২৫ তারিখের ০৬/২০২৫-২৬ নম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধিত বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি, ২০২৩ অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে উদ্ভূত বা পাকিস্তান অভিমুখে রপ্তানি হওয়া যেকোনো পণ্যের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ আমদানি কিংবা ট্রানজিট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই দুটি ক্ষেত্রেই প্রমাণিত হয়েছে যে সমস্ত আমদানি সরাসরি উক্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞার গুরুতর লঙ্ঘন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের এই দুর্দান্ত সাফল্য পাকিস্তানের আর্থিক ও বাণিজ্যিক কূটচালকে আবারও আন্তর্জাতিক স্তরে বেআব্রু করে দিয়েছে।