সম্পত্তি নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব! রাজস্থানে নিজের ছেলেদের ওপর জেসিবি চালিয়ে সর্বস্ব লুট করলেন বাবা!

রাজস্থানের ভিলওয়াড়া জেলার কারেদা থানা এলাকা থেকে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে তীব্র বিবাদের জের এমন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে যে ক্ষতিগ্রস্ত ছেলেরা দাবি করতে বাধ্য হয়েছেন—তাদের জন্মদাতা বাবাই এখন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, লোভের বশে ওই নিষ্ঠুর বাবা শুধু একটি বিশাল জেসিবি (JCB) মেশিন দিয়ে নিজের ছেলেদের আস্ত বাড়ির একটি বড় অংশ গুঁড়িয়েই দেননি, বরং বাড়ি ভাঙচুরের সুযোগ নিয়ে ঘরে থাকা বহুমূল্য সোনা-রুপার গয়না এবং সমস্ত নগদ টাকাও জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে গেছেন।
চাঞ্চল্যকর এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঘটনাটি ঘটেছে কারেদা থানার অন্তর্গত কেরিয়ান গ্রাম পঞ্চায়েতের দেবীপুরা গ্রামে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছেলেদের মধ্যে অন্যতম বাবুলাল গুর্জর সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে জানান যে, তাঁর বাবা নারায়ণ লাল গুর্জর ২০১৮ সালে আকস্মিকভাবে দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। এই দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি চরম আকার ধারণ করে এবং সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বাবা ও ছেলেদের মধ্যে নিরন্তর বিবাদ চলতে থাকে। অভিযোগকারী বাবুলাল ও তাঁর ভাই জীবিকার তাগিদে এবং চাকরির সুবাদে সুদূর বিদেশে অবস্থান করেন, আর তাঁদের বৃদ্ধা মা গ্রামের বাড়িতে সম্পূর্ণ একা বসবাস করতেন।
ভুক্তভোগী ভাইদের আরও গুরুতর অভিযোগ, তাদের অভিযুক্ত বাবা এর আগেও বেশ কয়েকবার তাদের নিরপরাধ বৃদ্ধা মাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করেছেন, যার বিরুদ্ধে অতীতে স্থানীয় থানায় একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। অভিযুক্ত বাবা প্রতিনিয়ত তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন, যার জেরে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ভুক্তভোগী দুই ভাই ও তাদের মা গ্রামের বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে কোনোমতে অন্য আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা মেলেনি; গত দুদিন আগে গভীর রাতে ওই প্রভাবশালী বাবা বেশ কিছু কুখ্যাত সমাজবিরোধীকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী জেসিবি মেশিন নিয়ে আসেন এবং সুদৃশ্য বাড়িটির একাংশ সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন।
বাবুলার আরও গুরুতর অভিযোগ করেন যে, তার বাবা শুধু বাড়ি ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি নিজের হাতে কেনা ও লালনপালন করা একটি দুধের মহিষও গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া ঘরের সমস্ত দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নির্মমভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আলমারি ভেঙে সর্বস্ব লুট করে নগদ টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বারবার আকুল আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা বা ন্যায়বিচার পাননি বলে অভিযোগ। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষ প্রশাসনের দ্রুত কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।