বইমেলায় ‘দেবদূত’ পুলিশ জেঠু! পকেটে ছিল না টাকা, খুদেদের এক ডজন বই কিনে দিলেন বড়বাবু

বইমেলা মানেই তো হাজারো গল্পের ভিড়, কিন্তু কান্দি মহকুমা বইমেলায় যে বাস্তব গল্পটি তৈরি হলো, তা ছাপিয়ে গেল ছাপানো সব গল্পের বইকেও। বই কেনার প্রবল ইচ্ছা, কিন্তু পকেটে নেই কানাকড়ি। বাড়ি থেকে চেয়েও মেলেনি টাকা। মন খারাপ করে স্টলে স্টলে ঘুরছিল তিন খুদে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা।
মুর্শিদাবাদের কান্দি হ্যালিফক্স মাঠে আয়োজিত ছ’দিন ব্যাপী বইমেলায় ঘটে এই অনন্য ঘটনা। বিজয়নগরের সপ্তম শ্রেণির রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও কল্যাণপুরের অষ্টম শ্রেণির রূপঙ্কর মণ্ডল সহ বেশ কিছু পড়ুয়া মেলায় এসেছিল প্রিয় বইয়ের খোঁজে। কিন্তু বইয়ের দাম দেখে তাদের চোখ কপালে ওঠার উপক্রম হয়। কেনার সামর্থ্য নেই বুঝে যখন তারা ফেরার তোড়জোড় করছিল, ঠিক তখনই সামনে দেখা মেলে থানার বড়বাবুর।
পুলিশ জেঠুর কাছে আবদার: ভয়ে গুটিয়ে না থেকে খুদেরা সরাসরি আইসি মৃণাল সিনহার কাছে গিয়ে তাদের মনের ইচ্ছার কথা জানায়। ‘পুলিশ জেঠু’ও নিরাশ করেননি। এক মুহূর্ত দেরি না করে তাদের নিয়ে সোজা ঢুকে পড়েন বইয়ের স্টলে। একটি বা দুটি নয়, এক ডজন করে বই কিনে দেন ওই পড়ুয়াদের। পুলিশের এমন মানবিক মুখ দেখে কার্যত অবাক বইপ্রেমীরা।
কী বলছেন পড়ুয়ারা? সপ্তম শ্রেণির রামকৃষ্ণ মণ্ডলের কথায়, “বই পড়ার খুব শখ, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছিলাম না। পুলিশ কাকুকে বলতেই তিনি আমাদের পছন্দের সব বই কিনে দিলেন। আমরা খুব খুশি।” এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের এই রূপ সাধারণত দেখা যায় না। উর্দিধারীদের প্রতি মানুষের ভয় কাটাতে এবং শিশুদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে মৃণাল বাবুর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।