ইতালির মেসিনা প্রণালীতে তৈরি হচ্ছে বিশ্বরেকর্ড গড়া সেতু: সামরিক ব্যয় সামলে কীভাবে সফল মেলোনি?

ইতালির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘপ্রতীক্ষিত ও উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত ‘মেসিনা প্রণালী সেতু’ নির্মাণের স্বপ্ন এখন বাস্তব হতে চলেছে। প্রায় ২,৩০০ বছর আগে রোমান সেনাদের সিসিলি থেকে হাতি পারাপারের সেই আদিম প্রচেষ্টার পর থেকে যে সেতু নিয়ে কেবল জল্পনাই চলেছে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনির সরকার অবশেষে তা নির্মাণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। মাত্র তিন বছরের লক্ষ্যমাত্রায় এই মেগা প্রজেক্ট সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন এই প্রকল্প এত গুরুত্বপূর্ণ? ইতালির মূল ভূখণ্ড এবং সিসিলি দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রায় ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ মেসিনা প্রণালীকে সংযুক্ত করতে এই সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। বর্তমানে জলপথই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলেও, এই সেতুটি সম্পূর্ণ হলে তা হবে বিশ্বের দীর্ঘতম ‘সিঙ্গেল-স্প্যান সাসপেনশন ব্রিজ’। এর ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ইতালির মধ্যে রেল ও সড়কপথের দূরত্ব এবং যাতায়াতের সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। সরকারি তথ্যমতে, এটি শুধু যাতায়াতই নয়, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও ইতালির অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে।

সামরিক ব্যয় বনাম অবকাঠামো: বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটোর সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে তাদের জিডিপির ৫% সামরিক খাতে ব্যয় করতে হবে। এই বিপুল আর্থিক চাপের মুখেও ইতালি কীভাবে মেগা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মেলোনি সরকার একে কেবল গণপূর্ত প্রকল্প হিসেবেই দেখছে না, বরং এটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হিসেবেই তুলে ধরেছে। জিডিপির সিংহভাগ সামরিক খাতে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও, এই প্রকল্পটি ইতালির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশাবাদী সরকার।

মেসিনা প্রণালীর মাহাত্ম্য: ইতালির দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি ভূমধ্যসাগরের টাইরেনিয়ান ও আয়োনিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে। এর প্রশস্ততা বিভিন্ন স্থানে ৩.১ থেকে ৫.১ কিলোমিটার পর্যন্ত। ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে সেতু নির্মাণ প্রকৌশলবিদ্যার এক চরম চ্যালেঞ্জ, যা সফল হলে তা বিশ্বজুড়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই সাহসী পদক্ষেপ কি সত্যিই তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে? নাকি আমলাতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় ফের থমকে যাবে ইতিহাস? এখন নজর সেদিকেই।